ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৪ পিএম
আজকে সুপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র, একটি মহল যারা ৭১ এ পাকিস্তানিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল, মেয়েদের তুলে দিয়েছিল খান বাহিনীর হাতে, তাদের সঙ্গে কি এদেশের মানুষ আপোষ করতে পারে? পারেনা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিভাইদের ধর্মীয় অনুভূতিকে বিক্রি করে তারা ঐকাজগুলো করতে চাচ্ছে। আমরা সেটা করতে দিতে পারিনা। আজকে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা সেই চেতনাকে সামনে আনতে হবে। । এজন্য মুক্তিযোদ্ধাদের গর্জে উঠতে হবে। আমরা এদেশের মানুষ লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি, মুক্তিযুদ্ধ করে ৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করেছি।
তিনি বলেন, আজকে যে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র চলছে নির্বাচনকে বানচাল করে দেওয়ার, নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার; সেই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া মানে আমাদের সর্বনাশ হওয়া, এদেশের সর্বনাশ হওয়া। কারণ এখন একটা নির্বাচিত সরকার খুব দরকার। এই সরকারটা এখন তাড়াতাড়ি নির্বাচনটা করবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা চাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার-প্রফেসর ইউনূসকে আমরা সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। তিনি কোনো কালবিলম্ব না করে অতিদ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা করবেন, দেশের একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৭১ হয় নাই, আমরা কিছুই করিনাই; দেশটার জন্য আমরা কোনো অবদানই রাখি নাই। যা হয়েছে সব চব্বিশে হয়েছে এমনটাই বোঝানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ৭১ এ হাজার হাজার মানুষকে গুলি তরে হত্যা করা হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে, মা-বোনদের অত্যাচার-নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, এই কথাগুলো আমরা ভুলতে পারিনা।
তিনি বলেন, ৭১ এ ৯ মাস আমরা যুদ্ধ করেছি, পরিবার-পরিজনের খবর নেওয়া হয়নি, কত মানুষ কোথায় চলে গেছে, সেই ৭১-কে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কি সেটা ভোলা যাবে? আমি কি আমার জন্মটাকে ভুলতে পারি, এটা মাথায় রাখতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে দিবেন না। আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই-ভাই একসঙ্গে আছি, যুদ্ধও। এটাকে যেন কেউ ভাগ করতে না পারে।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটা জিনিস মনে রাখতে হবে দেশ, মাটি ও দেশের মানুষগুলো আমদের, এই মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, টিকিয়ে রাখতে হবে। সমৃদ্ধির মধ্যে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এ সময় কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহবায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।