× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ, আহত ২০

আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম

আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ, আহত ২০

ঢাকার আশুলিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চারটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে। 

সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে কয়েক ঘণ্টা ধরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের সাড়ে তিন মাসের বেতন আটকে (বকেয়া) আছে। বারবার বেতন দেবে বইলা তারিখ দিলেও বেতন দেওয়া হয়নি। খালি তারা সময় নেয়। ফ্যাক্টরি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করছে। বেতনও দেওয়া হয় না, ফ্যাক্টরিও খোলে না। বেতন ও বন্ধ ফ্যাক্টরি খোলার জন্য বিক্ষোভ করলে পুলিশ টিয়ার শেল মারছে, গরম পানি মারছে।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, গত ২২ অক্টোবর চারটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধ ঘোষণা করার আগে তাদের গত তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়নি। একাধিকবার বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও বেতন পরিশোধ করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকাল ৮টার দিকে বন্ধ কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও কারখানা খোলে দেওয়ার দাবিতে ডিইপিজেডের মূল ফটকের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা মূল ফটকের সামনে নবীনগর থেকে চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান দিয়ে পানি ছিটিয়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে শ্রমিক ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকালে জড়ো হয়ে ডিইপিজেডের মূল ফটক অবরোধ করে রাখেন সাময়িক বন্ধ কারখানার শ্রমিকরা। পরে বেপজা কর্তৃপক্ষ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরাতে গেলে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। বাধ্য হয়ে জলকামান দিয়ে পানি ছিটিয়ে তাদের সরিয়ে দিতে হয়। পরে শ্রমিকরা কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাদের সড়ক থেকে সরাতে হয়েছে।ডিইপিজেডের কর্মকর্তারা জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া চারটি কারখানা গোল্ডটেক্স লিমিটেডের মালিকানাধীন। এর মধ্যে দুটি গার্মেন্ট ও দুটি টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমসে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা, আর্থিক সংকটের কারণে বন্দরে কাঁচামাল আটকে থাকা, ব্যাংকের সহায়তা না পাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ডিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম জানান, সাউথ চায়না ব্লিচিং অ্যান্ড ডায়িং ফ্যাক্টরি লিমিটেড, গোল্ডটেক্স লিমিটেড, গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস ও এক্টর স্পোর্টিং লিমিটেড সাময়িকভাবে বন্ধ। এ চারটি কারখানার মধ্যে তিনটি কারখানার শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তবে এ তিন কারখানার এক মাসের বেসিক বেতন পরিশোধ থাকায় মূলত আড়াই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া এক্টর স্পোর্টিং লিমিটেডের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত সভা করে এ বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানানো হচ্ছে।

শরীফুল ইসলাম আরো জানান, বন্ধ কারখানাগুলো চালুর চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট কারখানার কর্তৃপক্ষ। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে নির্দিষ্ট সময় পর সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা