নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৮ পিএম
নওগাঁর পোরশা উপজেলার সারাইগাছী বাজার থেকে বন্ধুপাড়া মোড় পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। এ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গাছ ফেলে চলে ডাকাতি। ডাকাত দল বিভিন্ন যানবাহনের পথরোধ করে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকারসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে। সড়কটিতে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে থানা পুলিশ।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ থেকে রাত ১০ অবধি এ সড়কের বেজোড়া মোড়সংলগ্ন যাত্রী ছাউনি এলাকায়, ব্রিজের কাছে, বেজোড়া মোড় থেকে তারেক জিয়া মোড় সংলগ্ন সড়কে গাছ ফেলে বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি করে ডাকাত দল। একই এলাকায় সড়কের সঙ্গে লাগানো সফিকুল ও রাজিবুলের দুটি বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি করার পর বাড়িতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়।
গত ১৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে উপজেলার সারাইগাছী-আড্ডা আঞ্চলিক মহাসড়কের মোশানতলা মোড় থেকে বন্ধুপাড়া মোড় পর্যন্ত ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ৩টি স্থানে ডাকাতরা গাছ ফেলে পথরোধ করে বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি করে। একই রাতে এই ৭ কিলোমিটারের মধ্যে বেজোড়া মোড়ের তিন নাইট গার্ডকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২০টি দোকানের সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। গত ১২ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে সারাইগাছী-আড্ডা সড়কের মোশানতলা মোড়ে। সেখানে একটি গাছ ফেলে উভয় দিক থেকে আসা বিভিন্ন যানবাহনের পথ রোধ করে যাত্রীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ কাছে থাকা সমস্ত মালামাল নিয়ে নেয়। অনেকে তাদের মালামাল দিতে না চাইলে তাদের মেরে গুরুতর আহত করে প্রায় ২০জনকে। এর আগের সপ্তাহে উপজেলার ঘাটনগর ইউপির তাঁতিপাড়া বাজারের মুদিখানা ব্যবসায়ী আলমঙ্গীর হোসেন রাত ৮টার সময় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তার পথরোধ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে তার কাছে থাকা ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ডাকাত দল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার সারাইগাছী থেকে বন্ধুপাড়া মোড় পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কে প্রায়ই সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ডাকাতি হচ্ছে। অথচ ডাকাতি বন্ধে পুলিশ প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম জানান, প্রতি মাসের আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে ঐ সড়কে ডাকাতির কথা আলোচনা হয়ে থাকে। এত ডাকাতির ঘটনায় তিনি নিজেও উদ্বিগ্ন।
এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বলেন, ওই এলাকায় থানা পুলিশ টহলে থাকে। এর পরেও কেন ডাকাতি হচ্ছে বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। ডাকাতি বন্ধে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।