নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ০০:২৩ এএম
পিরোজপুরের নেছারাবাদের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে জনপ্রতিনিধি বা সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই বদলে যাচ্ছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র। অবহেলিত জনপদের ভাঙাচোরা সড়ক ও অকেজো সেতু স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত নতুন কাঠামোয় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ত্রিশজন তরুণের উদ্যোগে ‘সবার আগে বলদিয়া’ নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে ওঠে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থায়নে এ পর্যন্ত ৩০টি সেতু সংস্কার করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে তারা এখন পরিচিত ‘অদম্য যুব সমাজ’ নামে।
বলদিয়া ইউনিয়নের চামি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একতা বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত এলজিইডির অধীনে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে তিনটি পুল দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ছিল। ওই রাস্তা দিয়ে কোনো রোগী পরিবহন বা পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারত না। পুলসহ রাস্তার টেন্ডার হয়েছিল একবার। সরকার পরিবর্তনের পর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয়রা গাছ ও বাঁশের সাহায্যে পুলে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করত। শনিবার ‘সবার আগে বলদিয়া’ সংগঠনের সদস্যরা দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে তিনটি পুল সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করেন। এতে ওই রাস্তা পুনরায় সচল হয়, হাসি ফোটে এলাকাবাসীর মুখে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, পরিষদ থেকে বরাদ্দ না পাওয়ায় এতোদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এই তরুণরা প্রমাণ করেছে, উন্নয়নের জন্য শুধু বরাদ্দ নয়, দরকার ইচ্ছা আর আগ্রহ।
একই ইউনিয়নের বলদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে ৬০ ফুট লম্বা সেতুও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পার হতো। সংগঠনের উদ্যোগে সেটি সংস্কার করা হলে এখন শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে চলাচল করছে। বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী জানায়, আগে সেতু পার হতে ভয় লাগত, এখন মনে হয় নতুন রাস্তা পেয়েছি।
উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের সাগরকান্দা বাজার থেকে জিনুহার গ্রাম পর্যন্ত সড়কেও একই চিত্র। নাথপাড়া এলাকায় স্কুল, মসজিদ ও মন্দিরসংলগ্ন তিনটি পুল ১৫ বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশের পর সংগঠনের নেতা মো. মাসুদ পারভেজ ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সেখানে নতুন করে তিনটি সেতু নির্মিত হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন সাহেব তিনটি সেতু নির্মাণের জন্য অর্থ দিয়েছেন। আমরা সেই অর্থে পাঁচটি সেতু করেছি। এছাড়া আমরা নিজেদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে পূর্বে ২৫টি সেতু সংস্কার করেছি।
সংগঠনের সভাপতি মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, প্রথমে নিজেদের অর্থায়নে ২২টি সেতু সংস্কার করেছি। পরে সোহেল মঞ্জুর সুমন সাহেবের সহায়তায় আরও পাচটি নতুন সেতু করেছি। শনিবার চামি গ্রামে আরও তিনটি সেতু সংস্কার শেষে আমাদের মোট কাজের সংখ্যা ৩০-এ পৌঁছেছে। শুরুতে সদস্য ছিল ৩০ জন, এখন শতাধিক তরুণ আমাদের সঙ্গে কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, যুবকদের এমন কাজ প্রশংসার দাবিদার এবং দৃষ্টান্ত। তিনি এ কাজকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অসাধারণ উদ্যোগ। অন্য ইউনিয়নের জনগণও এগিয়ে আসতে পারেন এমনি করে নিজেদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য।