নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ২০:১৭ পিএম
ফেসবুক, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরি এবং ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. রোকুনুজ্জামান রিপন (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) আর এম ফয়জুর রহমান। এর আগে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিপনকে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। গ্রেপ্তারের আগে তাকে রংপুরের তারাগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করা হয়।
রিপন রংপুরের তারাগঞ্জ থানার কুর্শা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে।
রিপন দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের নামে বিদেশে চাকরি ও ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে আসছিল। নোয়াখালীর এক ভুক্তভোগী দম্পতির কাছ থেকে তারা ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। প্রাপ্ত অর্থ ইসলামী ব্যাংক, সৈয়দপুর শাখায় রিপনের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। টাকা আত্মসাৎ করার পর প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
গ্রেপ্তারের পর রিপনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রতারণার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। পুলিশ তার বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ১২টি এটিএম কার্ড, একটি মনিটর এবং ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনের প্রমাণসহ এটিএম কার্ড উদ্ধার করে।
তদন্তে জানা গেছে, রিপন নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে চারটি ভুয়া ব্যাংক হিসাব খুলে অর্থ আত্মসাৎ করেছিল। ইসলামী ব্যাংক সৈয়দপুর শাখা থেকে প্রাপ্ত লিখিত ডকুমেন্ট ও ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজের পেনড্রাইভও জব্দ করা হয়।
পিবিআই’র এসপি আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে নিখুঁতভাবে তদন্ত করা হয়। অবশেষে চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। রিপন ও তার সহযোগীরা ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, রিপন আদালতে দোষ স্বীকার করে তার সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেছেন। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।