পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৬ পিএম
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় হামিদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবদল নেতাকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে তার বাঁ পা ভেঙে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাতে উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের ত্রিশুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
হামিদুল বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরি ইউনিয়নের নতুনহাট দক্ষিণ শালশিরি এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা এবং কামারহাট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন। তবে দলের দায়িত্বশীলরা দাবি করেছেন তিনি কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের ত্রিশুলিয়া এলাকার ভবেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ির একটি ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন হামিদুল। শব্দ পেয়ে বাড়ির লোকজন তাকে ধরার চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির পাশের একটি খালে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। সকালে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
স্থানীয় ভবেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। পুলিশ আমার কাছে সমঝোতার জন্য স্বাক্ষর নিয়েছে। তারা বলেছে, সে যেহেতু অসুস্থ চাইলে পরেও মামলা করা যাবে। তাই আমি স্বাক্ষর করে চলে এসেছি। চুরি করার ইচ্ছে না থাকলে অন্য এলাকার মানুষ এত রাতে তালা ভেঙে আমার ঘরে ঢুকবে কেন?
আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, ওই যুবকের বাম পায়ের একাধিক স্থানে ভেঙে গেছে। তার ডান হাতও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছি।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, চোর সন্দেহে ওই যুবককে স্থানীয়রা অনেক মারধর করেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাদী এ ঘটনায় অভিযোগ করবেন না বলে লিখিত দিয়েছেন।
বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মানিক বলেন, ওই যুবক ওয়ার্ড কমিটির সদস্য। কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই। আমি শুনেছি, তিনি একটি বিয়ে বাড়ি থেকে রাতে ফিরে। ফেরার পর সে ওই এলাকার এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে যায়। সেখানেই স্থানীয়রা চোর সন্দেহে তাকে মারপিট করেছে। শুনেছি, তার পা না কি ভেঙে গেছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে হামিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।