শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৭ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার জেরে পথরোধ করে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও শিক্ষকসহ তিনজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলাকারীরা তাদের কাছ থেকে ৯৫ হাজার টাকা এবং মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত সোহেল সরকার।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টায় শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কোষাদিয়া (আশা ব্যাংকের সামনে) গ্রামের হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, বরমী ইউনিয়নের পাঠানটেক গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সোহেল সরকার (৩৫), আব্দুল আজিজের ছেলে শিক্ষক এনামুল হক (৩৫) এবং তাদের সঙ্গে থাকা মোখলেছুর রহমানের ছেলে আল আমিন (৩৫)। স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
অভিযুক্তরা হলো- বরমী ইউনিয়নের পাঠানটেক গ্রামের মোসলেম উদ্দিন মাস্টারের ছেলে রাসেল শেখ (২৬), শামসুল হক ওরফে সামু কবিরাজের ছেলে তারিফ (২৫), মৃত সাহেব আলীর ছেলে জাহিদ (২৫), হারুনের ছেলে বিল্লাল (৩০), শৈলেনের ছেলে বিজয় (৩০), সিরাজের ছেলে রায়হান (২৮), সোহাদিয়া গ্রামের মৃত সাকুর ছেলে তন্ময় (২৪), রফিকুলের ছেলে জনি (২৬), সালাম উদ্দিনের ছেলে আল আমিন (২৬), মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে রেজাউল (২৭), কোষাদিয়া গ্রামের বোরহানের ছেলে নয়ন (২৫), মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে বোরহান (৫৫), সাহিদ (৩২) এবং মোজাম্মেল (২৪) সহ তাদের ৮ জন সহযোগী। ঘটনার পর থেকে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
আহত সোহেল সরকার জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনিসহ তার সহযোগী এনামুল হক, আল আমিন বরমী বাজার থেকে অটোরিকশায় মাইজপাড়া গ্রামে শশুরবাড়ি যাচ্ছিল। কোষাদিয়া আশা ব্যাংকের সামনে পৌঁছলে হামলাকারীরা তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে মুখ বেঁধে অটোরিকশা চারপাশ ঘিরে তাদের মারধর করে। একপর্যায়ে তারিফ তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে শিক্ষক এনামুল হকের মাথায় ঠিকিয়ে বলে ‘তোকে কোথায় গুলি করবÑ পায়ে, বুকে না মাথায়? তোর কাছে যা আছে দিয়ে দে, নইলে তোকে গুলি করে মারব। হামলাকারীরা তাদের কাছ থেকে ৯৫ হাজার টাকা এবং মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে পাশের নয়নের রিকশা গ্যারেজ থেকে লোহার রড, জিআই পাইপ ও হেমার এনে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। আমাদের চিৎকার শুনে পথচারী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়া চলে যায়।
অভিযুক্ত রাসেল শেখ, তারিফ এবং জাহিদের মুঠোফেনে যোগযোগ করলে বন্ধ পাওয়ায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুর বারিক বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।