দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:০৯ পিএম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পতিত জলাবদ্ধ জমিতে পানিফল চাষ করে বাজিমাত করেছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাটি নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় উপজেলার প্রায় সব অঞ্চলেই কমবেশি পানিফলের চাষ হয়। অধিক পরিমাণে পানিফল চাষ হওয়ায় বিক্রির জন্য দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের পাশে প্রতিদিন বসে পানিফলের হাট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ হাটে পাইকাররা আসেন পানিফল কিনতে। হাট ইজারাদারের দাবি প্রতিদিন হাটে ৮-১০ টন পানিফল বিক্রি হয়।
এদিকে পতিত জমিতে অল্প খরচে পানিফল চাষ করে বেশি দামে বিক্রি করতে পেরে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন কৃষকরা। পানিফলের স্থানীয় নাম সিঙারা। হোটেলের ভাজা সিঙারার মতো দেখতে বলে এটার নাম দেওয়া হয়েছে সিঙারা।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৩৯ হেক্টর পতিত জলমগ্ন জমিতে পানিফলের চাষ হয়েছে। দিন দিন পানিফলের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
পৌর শহরের ডালবাড়ি এলাকার পানিফল চাষি আলতাফ হোসেন বলেন, এ বছর চার বিঘা জমিতে পানিফল চাষ করেছি। তাতে সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার টাকার পানিফল বিক্রি করেছি আরও ২৫-২৬ মণ পানিফল ক্ষেতে আছেÑ যা আরও ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব।
বালুগ্রামের ফরহাদ হোসেন ১৫ বিঘা জমিতে পানিফল চাষ করেছেন। তিনি বলেন, অনান্য চাষের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের সার ব্যবহার হলেও পানিফল চাষে অল্প পরিমানে ইউরিয়া সারের ব্যবহার করতে হয়। বিঘা প্রতি ২০ কেজি ইউরিয়া সার দিতে হয় আর পোকার আক্রমণ হলে বিষ প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া আর তেমন কোনো খরচ নেই, যে কারণে পানিফল চাষে খরচের তুলনায় অধিক লাভবান হওয়া যায়।
পানিফল চাষি বিশু ডিলার বলেন, বর্ষার সময় পতিত নিচু জমি, ঢোবা, জলাশয়ে পানি ভরা থাকে সেই জমিতে অল্প খরচে পানিফল চাষ করা হয়। আমার ১০ বিঘা জমিতে পানিফল চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে ১৫-১৬ মণ পানিফল উৎপাদন হয়। প্রায় ১৫ বছর আগে থেকে এ ফল চাষ করছি। কোনোবারই লোকশানে পরতে হয়নি। প্রতিবছরই লাভবান হয়েছি।
পানিফল বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেওয়ানগঞ্জ থেকে পানিফল কিনে নিয়ে জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করি। ওসব অঞ্চলে পানিফলের চাষ না থাকায় ওসব অঞ্চলে পানিফলের বেশ কদর রয়েছে। খুচরা বাজারে পাঁকা পানিফল ৩০ টাকা ও কাঁচা পানিফল ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।
পানিফল হাটের ইজারাদার মনির হোসেন জানান, প্রাত্যহিক এ হাটে ৮-১০ টন পানিফল বিক্রি হয়। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি, পলাশবাড়ী, কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর, রৌমারী অঞ্চলের শত শত পাইকার এ হাট থেকে পানিফল কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে পাঁকা পানিফল ১৩০০-১৪০০ টাকা মণ আর কাঁচা পানিফল ৫০০-৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। দেওয়ানগঞ্জের পানিফল হাট অক্টোবরের শুরুর দিকে শুরু হয়েছে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত এ হাট চলবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, পতিত জলাবদ্ধ জমি, খাল, ডোবা, পুকুর, জলাশয়ে পানিফল চাষ করা যায়। কৃষি অফিস থেকে পানিফল চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। পানিফল চাষে অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় এ অঞ্চলে দিন দিন পানিফল চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।