× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জনবল সংকটে নবীনগর থানা: আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কা

পিয়াল হাসান রিয়াজ, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:০৮ পিএম

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:২০ পিএম

জনবল সংকটে নবীনগর থানা: আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানায় বর্তমানে ভয়াবহ জনবল সংকট রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১ জন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ১ জন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) ১১ জন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ৮ জন এবং কনস্টেবল ৪৬ জন মিলিয়ে মোট ৬৭ জন পুলিশ সদস্যের ওপর নির্ভর করছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

তবে দীর্ঘদিন ধরে থানায় নেই কোনো ইন্সপেক্টর (তদন্ত)। তাছাড়া এদের সবাই সবসময় মাঠে থাকতে পারেন না; কেউ কেউ ছুটিতে বা প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকায় কার্যত সক্রিয় সদস্য সংখ্যা আরও কমে আসে।

পুলিশ জানায়, উপজেলায় দুটি ফাঁড়ি রয়েছে-শিবপুর অস্থায়ী ফাঁড়ি ও সলিমগঞ্জ অস্থায়ী ফাঁড়ি। প্রতিটি ফাঁড়িতে দায়িত্বে আছেন একজন এসআই ইনচার্জ, একজন এএসআই ও ৮ জন কনস্টেবল। এই দুই ফাঁড়ির জনবল বাদ দিলে থানা দপ্তরে বাস্তবে মাঠে কাজ করছেন মাত্র ৪৭ জন পুরুষ ও নারী পুলিশ সদস্য।

অপরদিকে পুলিশের জন্য থানার ভেতরে আবাসনের ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। কোয়ার্টার সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকটি, যেখানে অল্প কিছু অফিসার থাকেন। থাকার ভবনগুলোও পুরোনো ও জরাজীর্ণ। অনেক জায়গায় স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল, ভাঙা ছাদ, নষ্ট পানির লাইন-তবু বাধ্য হয়ে এসব অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে থানার সদস্যদের। ফলে তাদের মনোবল ও কর্মদক্ষতা দুইই প্রভাবিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন সীমিত জনবল ও অপ্রতুল সুবিধা নিয়ে এত বড় এলাকায় শান্তি বজায় রাখা অসম্ভব। তারা বলেন, নবীনগরের মতো বিশাল উপজেলায় অন্তত দ্বিগুণ পুলিশ সদস্য দরকার, না হলে অপরাধ বাড়তেই থাকবে।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুলিশের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশনা আসার পর থেকেই অপরাধ দমন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। এর পর থেকে নবীনগরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও গুলির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, গত ২১ সেপ্টেম্বর নবীনগর উপজেলার আদালতপাড়া পুকুরপাড়ের বউ সাজ বিউটি পার্লার থেকে জাল নোট ও অস্ত্রসহ ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৫ অক্টোবর পদ্মপাড়ার মাইন উদ্দিন সওদাগরের বাড়ির তৃতীয় তলায় প্রবাসী শরীফ মিয়ার বাসায় দুর্বৃত্তরা ৭ লাখ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। ২৪ অক্টোবর একই এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান মুকুল। ১ নভেম্বর রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলায় গুলিতে নিহত হন মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০) ওই এলাকার একটি হোটেল কর্মচারী ইয়াছিন (২২)।

সবগুলো ঘটনার কিছু আসামি গ্রেপ্তার, জাল টাকা ও অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও জনমনে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, এটা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবচেয়ে বড় উপজেলা, কিন্তু এখানে পুলিশ সদস্য তুলনায় অনেক কম। থানার কোয়ার্টারগুলোও পুরোনো ও অপর্যাপ্ত। অনেক এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও আলো না থাকায় অপরাধীরা সহজেই অপরাধ করে পালিয়ে যায়। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, জনবল বেশি থাকলে অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে। প্রতিটি ঘটনায় বিচক্ষণতার সাথে পুলিশ তদন্ত করে আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা