ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৪৮ পিএম
ঝিনাইদহে শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম মোল্লাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এ সময় যুবলীগ নেতার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও ভাঙচুর করে তারা।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরের দিকে ঝিনাইদহ শহরে এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম হোসেন মোল্লা জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে আসেন। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতার একটি গ্রুপের সঙ্গে তার বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত ছাত্র-জনতা শামীম মোল্লাকে গণপিটুনি দেয় এবং একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবলীগ নেতাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব সাইদুর রহমান বলেন, দুপুরের দিকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দোসর শৈলকুপা উপজেলা যুব লীগের সভাপতি জেলা এলজিইডি অফিসে যান। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। শামীম হোসেন মোল্লা বহু অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার, বাণিজ্য ও লুটপাট করেছে। সে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গোপনে গোপনে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিভিন্নভাবে সযোগিতা করছে। তাকে এলজিইডি অফিসে পেয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা গণধোলাই দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাইদুর রহমান আরও বলেন, শামীম হোসেন মোল্লাকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা গণধোলাই দিয়েছে এমন খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে ওই যুবলীগ নেতাকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এদিকে, যুবলীগ নেতা শামীম মোল্লা ঘটনা সম্পর্কে বলেন, জেলা শহরের পূবালী ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা তুলে তিনি নামাজ পড়তে ঝিনাইদহ এলজিইডি অফিসে যান। এ সময় জনতা তাকে ব্যাপক মারপিট করে রক্তাক্ত করে এলজিইডি একটি কক্ষে আটকে রাখে। তার ব্যবহৃত গাড়িটিও আন্দোলনকারীরা ভেঙে ফেলে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নগদ ৭৪ হাজার টাকা ও চেক উদ্ধার করে। বাকি টাকার কোনো হদিস নেই বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, শামীম মোল্লার গাড়ি থেকে মাত্র ৭৪ হাজার টাকা ও একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকার ব্যাপারে তাদের জানা নেই। চিকিৎসা শেষে শৈলকুপা থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সদর থানা পুলিশ।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবলীগ নেতাকে নিয়ে আসেন। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।