ময়মনসিংহ অফিস
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গাছে বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা হলেন আব্দুল করিম মিলিটারি (৭৬)। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাগলা থানাধীন শাহ্ মিসকিন মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে গ্রেপ্তার মুক্তিযোদ্ধা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মামলা ও থানা সূত্রে জানা গেছে, মুখী গ্রামের মৃত কেরামত আলী শেখের ছেলে আব্দুল করিম এবং একই গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহিন ফকির প্রতিবেশী। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আব্দুল করিম শাহিন ফকিরের বসতঘরে প্রবেশ করে তার মাদরাসা পড়ুয়া মেয়েকে (১৬) একা পেয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকারে শাহিন ফকিরের ছেলে শাহ্ মো. হাবিবুল্লাহ (২০) এসে তাকে আটক করে দুই হাত পিছনে বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল করিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে শাহিন ফকির থানায় গিয়ে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায়।
তবে আব্দুল করিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শাহিনের কাছে তার ছেলে আলম ৮-১০ বছর আগে ২০ হাজার টাকা পেত এবং জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আমি পাশের বিরুনীয়া বাজারে কৃষি ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ব্যাংকের কাজ শেষ করে শাহিনের বাড়ির সামনে দিয়ে আসার সময় শাহিনের ছেলে হাবিবুল্লাহ লোকজন নিয়ে আমাকে আটকে দুই হাত পিছনে বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে বিকাল পর্যন্ত আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনা সদস্য। আমার বয়স ৭৬। আমি এমন কাজ করতে পারি না।
মামলার বাদী শাহিন ফকির জানান, তার মাদরাসা পড়ুয়া মেয়েকে একা পেয়ে আব্দুল করিম শ্লীলতাহানির চেষ্টা করায় তিনি মামলা করেছেন। তবে তিনি গলায় জুতার মালা পরানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
আব্দুল করিমের ছেলে দিদার আলম জানান, প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের জমি সংক্রান্ত মামলা আগেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কিন্তু সরকার পতনের পর থেকে বিএনপি সমর্থক চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা- যার মধ্যে বুলবুল, মজিদ, হুমায়ুন, হেলালসহ কয়েকজন তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা গত মাসেও দা দিয়ে ধাওয়া করেছিলেন।
দিদার আলমের অভিযোগ, ঘটনার দিন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই সন্ত্রাসীরা তার বাবাকে আটকে গালিগালাজ ও মারধর করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করেন। এর পর তারা তার বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং জায়গা-জমি বিক্রি করে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলে। আব্দুল করিম আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ার কারণেই বিএনপি সমর্থকরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পাগলা থানার ওসি ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী এক কিশোরীর বাবা শাহিন মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমকে আসামি করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাকে গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু জানে না। আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।