বেনাপোল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৫ এএম
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৭ এএম
যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেবার মান বাড়েনি। ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ৫০ শয্যা হাসপাতালের চিচিকিৎসাসেবা। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাব ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠী। এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের।
এদিকে জনবল সংকট ছাড়াও সার্জারি যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, অপরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ডে পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত বাথরুমসহ নানা সমস্যা রয়েছে হাসপাতালটিতে। এ হাসপাতালে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দুটি অপারেশন থিয়েটার দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিন ৫ শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। ভর্তি হন ৩৫-৪০ জন। চিকিৎসা দিতে না পারায় বেশিরভাগ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে জেলা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। যারা আছেন, তাদের অনেকেই নিয়মিত রোগী দেখেন না। অফিস সময়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও প্রাইভেট ক্লিনিক বা শহরের হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে আসা রেহেনা বেগম বলেন, সকাল ৮টায় এসেছি, বেলা সাড়ে ১১টা বাজলেও এখনও ডাক্তারের দেখা মেলেনি। লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, আরও ৩০ জনের পরে দেখা হবে। এত দেরিতে কীভাবে চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব।
ভুক্তভোগী এক রোগীর
স্বজন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার আশায় এসেছিলাম। কিন্তু এখানে নেই সঠিক চিকিৎসক,
নেই মানসম্মত খাবার, নেই পর্যাপ্ত ওষুধ। সবকিছুই সিন্ডিকেটের দখলে। সেবা নিতে আসা রোগীরা
নানা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে সব ধরনের সেবা থাকলেও ডাক্তার ও ল্যাব টেকনিশিয়ানরা
তাদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দুয়েকটি ছাড়া সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। বাথরুম ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না।
পুরুষ ও মহিলা রোগীদের একই বাথরুম ব্যবহার করতে হয়।
রোগী ও স্বজনদের
অভিযোগ, হাসপাতালের পরিবেশ একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। অধিকাংশ বেড ভাঙা ও জোড়াতালি দেওয়া,
বাথরুম নোংরা ও অকার্যকর। রাতে ফ্যান ও লাইট না থাকায় হাসপাতাল অন্ধকারে ভুতুড়ে পরিবেশ
ধারণ করে। হাসপাতালের চারটি কেবিন সব সময় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলে থাকে। ম্যানেজ
করতে পারলেই কেবিন পাওয়া যায়।
রোগীদের নিম্নমানের
খাদ্য সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
ডাক্তার তৌফিক পারভেজ বলেন, আমাদের হাসপাতালে একই ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য সরবরাহ
করছেন। তাকে বারবার নিম্নমানের খাদ্য না দিয়ে ভালো মানের দেওয়ার জন্য বলা হলেও গুরুত্ব
দিচ্ছেন না। ঠিকাদারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে হাসপাতালে
টেস্ট না করিয়ে রোগীদের বাইরে টেস্ট করতে পাঠানোর বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি
আরও বলেন, শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চরমে। ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই
হাসপাতাল চালাতে হচ্ছে।