রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:১৫ এএম
প্রবা ফটো
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৫০ কোটি টাকার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের সুফল এখনও নাগরিকদের হাতে পৌঁছেনি। সাত বছর পার হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ধীরগতির কাজ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভূমি সমস্যায় দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে এ উন্নয়ন উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও সম্পূর্ণ সুফল পেতে আরও সময় লাগবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে
১৩ সেপ্টেম্বর সারা দেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের জন্য একটি প্রকল্প
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকে অনুমোদন করা হয়। এ প্রকল্পে জগন্নাথপুর পৌরসভার পানি
নিষ্কাশন ও স্যানিটেশন প্রকল্পের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলে। জগন্নাথপুর পৌরসভা
ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া
হয়।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথপুর পৌরসভার জন্য একটি গ্রাউন্ড ট্রিটমেন্ট
প্লান্ট, ওভার হেড ট্যাংক, একটি সলিড ওয়েস্ট কম্পোসিং সিস্টেম, ২৬ কিলোমিটার পাইপলাইনের
মাধ্যমে পানি সরবরাহের মধ্যে ২৩ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়। ৯৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করার
কথা থাকলেও আর হয়নি। ৮ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেনের কাজ বাস্তবায়ন হয়। ১৫ কমিউনিটি ল্যাট্রিনের
মধ্যে ৫টা হয়েছে ১০টির কাজ হয়নি। ৬টি পাবলিক টয়লেট হয়েছে। ৩৬টি ডাস্টবিন হওয়ার কথা
থাকলেও হয়নি। একটি পানি সরবরাহ অফিস হয়েছে ও দুটি তিন টন ওজনের ট্রাক বরাদ্দ পাওয়ার
কথা থাকলেও এখনও মিলেনি। শুরুতে ভূমি জটিলতায় প্রকল্পের কাজ বিঘ্নিত হলেও ২০২০ সালে পৌরসভার হবিবপুর এলাকায় ৪ দশমিক ৪৩ একর ভূমি সরকার
থেকে বরাদ্দ নিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। গত ৫ বছরে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত অনেক কাজ
হয়নি। এর মধ্যে সলিড ওয়েস্ট কম্পোসিং সিস্টেম ভূমি জটিলতায় বাতিল হয়ে যায়।
জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল ও ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র সফিকুল হক জানান,
আমরা দায়িত্বকালীন এ প্রকল্পের পুরোপুরি কাজ শেষ করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে চেষ্টা
করেছি। আমলাতান্ত্রিক নানা জটিলতায় কাজ শেষ হয়নি, কবে এর সুফল মিলবে বলা যাচ্ছে না।
আমার ওয়ার্ডে একটি ড্রেনের কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে গেছে ঠিকাদার।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক এমএ কাদির বলেন, ৫০ কোটি
টাকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব হতো। ৭ বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ
না হওয়া দুঃখজনক। পৌর নাগরিকরা বিশুদ্ধ পানি ও ড্রেনেজ সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রকৌশলী সতীশ গোস্বামী জানান, প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শেষ
পর্যায়ে থাকলেও গত এক বছর ধরে অসমাপ্ত কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। প্রকল্পের পুরোকাজ শেষ
করতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
জগন্নাথপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, এ প্রকল্পের অনেক কাজ এখন দৃশ্যমান। প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আমরা চেষ্টা করছি।