সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪৫ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪৮ পিএম
সাতক্ষীরার বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহের সময় ৩০ কেজি পচা মাংসসহ আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রবিবার (২ নভেম্বর) সাতক্ষীরা কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এ দণ্ড দেন। এর আগে শহরের লাবণী মোড় থেকে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সহায়তায় পচা মাংসসহ অভিযুক্ত আব্দুল কাদেরকে আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্ত, সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. বিপ্লব জিৎ মন্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি অলিউর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হোটেল রেস্তোরাঁ মালিকদের বিরুদ্ধে শহরের দোকানগুলো থেকে টাটকা মাংস না কিনে শহরের বাইরে থেকে আনা নিম্নমানের মাংস ক্রয় ও হোটেল রেস্তোরাঁয় পরিবেশনের অভিযোগ করেন।
তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার নেতারা মাংস ব্যবসায়ী সমিতির ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
এরপর থেকে মাংস ব্যবসায়ীরা বাইরে থেকে আনা নিম্নমানের মাংস শহরে যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য গোপনে বিভিন্ন জায়গায় পাহারা দিতে থাকে এবং রবিবার সকালে তারা শহরের প্রাণকেন্দ্র লাবণী মোড় থেকে খাওয়ার অনুপযোগী পচা দুর্গন্ধযুক্ত ৩০ কেজি মাংসসহ বাহক আব্দুল কাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটক মো. আব্দুল কাদের জানান, তিনি দেবহাটার কুলিয়া বাজারে ছাগল জবাই করে সেই মাংস শহরের কাচ্চি ডাইনসহ কয়েকটি হোটেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছিলেন। ‘কবির মিট’ নামে শহরের কামালনগর বউ বাজারে তার মাংসের দোকান আছে।
এ ব্যাপারে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের ও সেক্রেটারি অলিউর রহমান জানান, অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ী আমাদের সমিতি ভুক্ত নয়। শহরের বাইরের কোনো মাংস শহরে বিক্রি করা যাবে না। আমরা বেশ কয়েকদিন ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে পাহারা দিচ্ছিলাম, যেন কোনো ধরনের নিম্নমানের মাংস শহরে প্রবেশ করতে না পারে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে পচা মাংস এনে শহরের বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করছিলেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরীক্ষায় মাংসটি পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত প্রমাণিত হয়েছে। ভোক্তা অধিকার আইনে তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ২০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোন কোন হোটেলে এ মাংস সরবরাহ করা হতো তা জানার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে এবং আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখছি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব জিৎ মণ্ডল বলেন, মাংসটি প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে এর স্বাভাবিক রং নেই এবং তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এটি হয়তো অনেক আগে জবাই করা, অথবা মৃত পশুর মাংস হতে পারে। এ মাংস খাওয়ার উপযুক্ত নয়। মানব স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ও তাজা মাংস গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।