মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) ও ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ২০:০১ পিএম
দেশের পটুয়াখালী ও ফেনীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগী। এদিকে শয্যা সংকটে হাসপাতাল ও ওয়ার্ডের বারান্দায় চলছে চিকিৎসাসেবা। ডেঙ্গু রোগীদের মশারি টানিয়ে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হলেও শয্যা সংকটে বারান্দা ও ওয়ার্ডের মেঝেতে থাকায় তারা মশারি টানাতেও পারছেন না।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ৫০ শয্যা হাসপাতালে রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ৯০ জন রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে শনিবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ৫ জনসহ মোট ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটে অধিকাংশ রোগী মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন বলে জানান একাধিক ভর্তি রোগী। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু নেই, সবাই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরছেন জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
মির্জাগঞ্জ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীদের সংখ্যানুপাতে মির্জাগঞ্জের চেয়ে বেতাগী উপজেলার রোগীই বেশি। মঞ্জুরিকৃত ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রায় দ্বিগুণ রোগী থাকায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে-বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। অতিরিক্ত রোগীর চাপে দম ফেলারও ফুরসৎ নেই চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টেবর পর্যন্ত ৯৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৯৪৮।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, প্রতিদিন মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে দুই শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। একদিকে ডাক্তার সংকট, অন্যদিকে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি।
এদিকে ফেনীতে চলতি বছরে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২২ জনে। রবিবার দুপুর-পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে আরও ২৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, নতুন শনাক্তদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৩ জন ও দাগনভূঞায় ১৯, ছাগলনাইয়ায় ২ জন। বর্তমানে আক্রান্তরা ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চলতি মাসের ২ তারিখ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ২৪ জনের। এর আগে অক্টোবর ২৯৭, সেপ্টেম্বর ১২১, আগস্ট ৪৯ এবং জুলাইয়ে ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলাভিত্তিক ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা দাগনভূঞা ২৬২ জন, ফেনী সদর ১৮৭, ছাগলনাইয়া ৩৪, সোনাগাজী ১৯, পরশুরাম ১৮ ও ফুলগাজীতে ২ জন।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫২২ জন। ডেঙ্গুর শনাক্তকরণের ৩ হাজার ৯৭৮টি কিট জমা রয়েছে।