জামালপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১০ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ২১:২১ পিএম
জামালপুরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক ও মালিকরা ৫ দফা দাবিতে স্মারক লিপি দিয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। রবিবার (০২ নভেম্বর) এই ধর্মঘট সকাল ৬টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে। এ সময় সকল ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা চলাচল বন্ধ ছিল শহরেÑ যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
পরে হাজার হাজার চালক ও মালিক জামালপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এবং জামালপুর শহর থেকে একজোট হয়ে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এর আগেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে তাদের পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রবিবার সকালে জামালপুর শহরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছাড়া সকল যানবহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল কিন্তু অটোরিকশা না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা হেঁটে স্কুল-কলেজে গিয়েছে। অনেক অসুস্থ রোগীও পায়ে হেঁটে, সিএনজি ভাড়া করে ও মোটরসাইকেলযোগে হাসপাতালে পৌঁছেছে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য।
ইজিবাইক চালক ও মালিকদের ৫ দফা দাবিগুলো হচ্ছেÑ লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি করা যাবে না, পৌরসভার লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব গাড়ি শহরে চলাচল করবে কোনো কালার করা যাবে না এবং বাইরের কোনো গাড়ি শহরে চলাচল করতে পারবে না, গ্যাপ দিয়ে গাড়ি চালানোর নিয়ম বাতিল করতে হবে। আলহাজ শাহ ফতে উল্লাহ ফতু এই প্রতিবেদককে জানান, মালিকদের গাড়ির আমদানি দিতে দিতে আমাদের জীবন শেষÑ আমদানি দেওয়ার পর আমাদের বেশি কিছু থাকে না কোনোরকমে ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকি এর উপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। তিনি আরো জানান, প্রতি বছর আমাদের লাইসেন্স নবায়ন করতে হয় এই লাইসেন্স নবায়নের জন্য তিন হাজার পাঁচশত টাকা দিতে হয়Ñ এবার এটি এক লাফে ৪ হাজার টাকা হয়ে গেছে আমাদের জীবন চলছে না এর মধ্যে পৌর কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য না বলে জানান তিনি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহার শেখ বলেন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে প্রতিটি ইজিবাইক কালার করতে হবেÑ লাল, নীল। একদিন লাল গাড়ি চলবে আরেকদিন নীল গাড়ি চলবে।
ইজিবাইক চালিয়ে আমাদের সংসার চলে না এখানে পৌর কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের ওপর এত কিছু চাপিয়ে দেয় তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষার্থী মো. লোকমান বলেন, ইজিবাইক না থাকার কারণে তিন কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে কলেজে যেতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথাও বলেছেন তিনি। তিনি বলেন, দ্রুত প্রশাসন যেন এ সমস্যার সমাধান করেন।
সরিষাবাড়ী উপজেলা সিমলা বাজার এলাকা থেকে থেকে নূর হোসেন মানিক নামে এক ব্যক্তি জামালপুর শহরে এসেছেন; তিনি বলেন, আমি রাজধানীর উদ্দেশ্যে যাব রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে আমার বাবা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন কিন্তু এখানে এসে দেখি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে নাÑ যার ফলে কয়েক কিলোমিটার হাটলাম দ্রুত যেন এই সমস্যার সমাধান হয় এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সর্বশেষ জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয় সেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। চালক এবং মালিকদের সব সিদ্ধান্ত মেনে না নিলেও তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিদ্ধান্তে পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম সবার উদ্দেশ্যে বলেন, লাইসেন্স আছে এমন গাড়ি ৭ দিনই চলবে। এনআইডির অনুকূলে লাইসেন্স প্রদান করা হবে এবং একজন একটি লাইসেন্স পাবে; তিনি আরও বলেন, পৌরসভার বাহির থেকে কোনো রিকশা/ ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং পৌরসভার গাড়ি বাহিরে যেতে পারবে না। মহাসড়কে কোনো অটো ইজিবাইক চলবে না লাইসেন্স নবায়ন ফি তিন হাজার টাকা এবং মিশুক রিকশা ২০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শহরে লাল এবং নীল রংবিহীন গাড়ি ধরা পড়লে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।