× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সুপারি

বাম্পার ফলনেও দামে হতাশা

শেখ সোহেল, বাগেরহাট

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:২০ পিএম

বাম্পার ফলনেও দামে হতাশা

নারিকেল ও সুপারির জন্য বিখ্যাত উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে এবার সুপারির বাম্পার ফলন হলেও ভরা মৌসুমে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। বাজার স্থিতিশীল না হলে তাদের এই পরিশ্রমের ফলন হয়তো লাভে রূপ নেবে না। তাই চাষিরা চাইছেন সরকারি নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন মোকামে চাহিদা কম থাকায় এবার সুপারির বাজারে দামে ধস নেমেছে।

সরেজমিন কচুয়া উপজেলার বাধাল সুপারির হাটে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই জমে উঠছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। দূরদূরান্ত থেকে চাষিরা ব্যাগ, ঝাকা ও বস্তায় ভরে সুপারি নিয়ে আসছেন, আর পাইকাররা দরদাম করে কিনছেন। এখানে ১১ পিসে এক ‘ঘা’ এবং ২১ ঘায়ে এক ‘কুড়ি’ হিসেবে বিক্রি হয় সুপারি। সপ্তাহে দুই দিন রবিবার ও বৃহস্পতিবার কয়েক কোটি টাকার সুপারি বিক্রি হয় এই ঐতিহ্যবাহী হাটে। এখান থেকে পাইকারদের হাত ঘুরে সুপারি যায় রংপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। চলতি বছরে ফলন ভালো হলেও চাষিদের মুখে হাসি নেই। কারণ গত বছরের তুলনায় প্রতি কুড়ি সুপারির দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, গত বছর কুড়িপ্রতি ৮০০ টাকা করে বিক্রি করেছি, এখন ৫০০ টাকাও পাচ্ছি না। ফলন ভালো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দামে এমন পতন হলে লাভ তো দূরের কথা খরচই উঠে না।

আরেক চাষি শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ফলন বেশি হলেও পাইকাররা দাম কমিয়ে নিচ্ছে। সরকার যদি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখত তাহলে আমাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো।

বাধাল বাজারের পাইকার জহিরুল ইসলাম বলেন, এবার মোকামে চাহিদা কম। রংপুর ও কুমিল্লার দিকের পাইকাররা সুপারি তুলছে কম, তাই দামও নিচে নেমেছে।

অন্যদিকে, খুচরা ক্রেতা সুমন হাওলাদার বলেন, এখন দাম কিছুটা কম থাকায় আমরা পাইকারদের কাছ থেকে বেশি করে কিনছি, পরে দাম বাড়লে লাভ হবে আশা করছি।

এই বাজারকেন্দ্রিক সুপারি ব্যবসায় ৫ শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা সুপারি বাছাই, গোনা, বস্তা ভরা ও ট্রাকে তোলার কাজ করে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন।

শ্রমিক মো. সেলিম শেখ বলেন, মৌসুমে কাজ ভরপুর থাকে, সারা দিন কাজ করে ভালো আয় হয় পরিবার চালানো যায়।

বাধাল বাজারের ইজারাদার খান শহিদুজ্জামান মিল্টন বলেন, এই শতবর্ষী বাজারে সুপারি বিক্রি বাড়তি হলেও জায়গা সংকট বড় সমস্যা। পাশের জমি অধিগ্রহণ করে বাজার বড় করা গেলে আরও বেশি ক্রেতা-বিক্রেতা উপকৃত হতেন।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, বাগেরহাটের মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। জেলায় এবার প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হবে প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন। তবে অনেক কৃষক নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করেন না। পরিচর্যা ঠিকমতো করলে উৎপাদন আরও বাড়বে। এজন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা