প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২৬ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪৩ পিএম
দিনাজপুর, নওগাঁ ও রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়া, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া কৃষকের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। কৃষক তার ধান ও সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। প্রতিবেদকদের পাঠানো খবরÑ
হিলি (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি উপজেলার মাঠজুড়ে এখন কৃষকের মুখে হতাশার ছাপ। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে পাকা সোনালী আমন ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার হাজারো কৃষক। পরিশ্রমে ঘাম ঝরানো ফসল এভাবে নষ্ট হতে দেখে তারা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়া। কখনও ঝড়ো হাওয়া, কখনও মুষলধারে বৃষ্টি। এর প্রভাবে হিলি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধানক্ষেতে পানির স্তর বেড়ে গেছে। ধানের গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে।
বোয়ালদাড় ইউনিয়নের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, ধান কাটা শুরু করতেই এমন আবহাওয়া শুরু হলো। বাতাসে ধান পড়ে গেছে মাটিতে, এখন কেটে ঘরে তোলা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শ্রমিক খরচ বেড়ে গেছে, তবুও ঠিকমতো শুকাতে পারছি না।
এমন চিত্র দেখা গেছে হিলি উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে। কৃষকরা বলছেন, এক মৌসুমের এই ধান বিক্রি করেই তারা প্রয়োজন মেটান। ঋণ শোধ করেন। কিন্তু এবার আবহাওয়া সেই আশা ভঙ্গের কারণ হয়ে উঠেছে।
হাকিমপুর কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও বাতাসে উপজেলার কিছু এলাকায় আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করছেন।
নওগাঁ : নওগাঁর নিয়ামতপুর ও পোরশা উপজেলায় বৈরী আবহাওয়ায় ধান ও সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নিয়ামতপুর উপজেলায় ধান ঘরে তোলার শেষ মুহূর্তে বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে করে কৃষকের স্বপ্ন পানিতে ভাসছে।
উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বেশির ভাগ জমির ধান পানিতে ভাসছে। এদিকে টানা বৃষ্টিতে নিয়ামতপুর উপজেলায় পুকুর খাল-বিলের পানি বের হয়ে ৮০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। শুক্রবার রাত থেকে টানা ৩-৪ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত হয়।
নিয়ামতপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ৩০ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
অন্যদিকে পোরশা উপজেলার বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত নওগাঁর পোরশায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে ১০৫ হেক্টর জমির আমন ধানের গাছ জমির ওপর নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিচু জমির পানি তাড়াতাড়ি না সরলে ধানের ক্ষতির শঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
তবে কৃষি সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা খুব একটা বেশি হবে না।
কৃষকরা বলছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে এ উপজেলার গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টিতে উপজেলার নিচু জমিতে আমন ও রবি ফসলের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মামুনুর রশিদ বলেন, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তানোর (রাজশাহী) : রাজাশাহীর তানোর উপজেলায় গত বুধবার ও শুক্রবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে ঘরবন্দি মানুষ। টানা বৃষ্টির কারণে উজান থেকে আসা পানির ঢলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও পুকুর-খালে গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলার চান্দুড়িয়া, কামারগাঁ, পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়ন এবং তানোর পৌরসভায় রোপা-আমন পাকা ধান ডুবে গেছে, ডুবতেই আছে। অপরদিকে শত শত পুকুরের ভেসে গেছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। সোনালী রঙে পাক ধরা মাঠজুড়ে একরের পর একর রোপা-আমন ধান হঠাৎ দুই দিনের ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে মাজা ভেঙে জমিতে পড়ে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, উপজেলায় রোপা-আমনের চাষাবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। তবে ধান ডুবেছে পুরোপুরি ভাবে ৪৬ হেক্টর এবং আংশিক ডুবছে ১৫৭ হেক্টর জমি।