খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৯ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪৬ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা জেলার নতুন কারাগারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে পুরাতন জেলা কারাগার থেকে ১০০ জন বন্দিকে স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে খুলনা সিটি বাইপাসে নবনির্মিত কারাগারের কার্যক্রমের সূচনা হয়।
খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান জানান, সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত ৪৫ জন ও বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত ৫৫ জন বন্দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নতুন কারাগারে আনা হয়। বন্দিদের স্থানান্তরের সময় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট, পুলিশ এবং র্যাব-৬-এর সশস্ত্র সদস্যরা পাহারায় ছিলেন। তিনটি প্রিজনভ্যানে করে বন্দিদের নতুন কারাগারে পাঠানো হয়।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বন্দিরা পৌঁছালে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কারা অধিদপ্তরের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মনির আহমেদ, জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান, ডেপুটি জেল সুপার আব্দুল্লাহ হেল আল আমিন, জেলার মুহাম্মদ মুনীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। নতুন জেল হওয়ায় প্রাথমিকভাবে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, তবে প্রথম পর্যায়ে ১০০ বন্দিকে স্থানান্তর করে কার্যক্রম শুরু করা হলো।
নতুন খুলনা জেলা কারাগারটি খুলনা সিটি বাইপাসের (রূপসা ব্রিজ রোড) পাশে ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে। ২০১১ সালে একনেক ১৪৪ কোটি টাকার প্রাথমিক বাজেটে প্রকল্পটি অনুমোদন করে। পরবর্তীতে সময়সীমা ও বাজেট বাড়িয়ে খরচ দাঁড়ায় ২৮৮ কোটি টাকায়।
কারাগার কমপ্লেক্সে মোট ৫৭টি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে, যার মধ্যে বন্দিদের থাকার ভবন ১১টি। প্রতিটি ভবনের চারপাশে পৃথক সীমানাপ্রাচীর তৈরি করা হয়েছে যাতে বিভিন্ন শ্রেণির বন্দিরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে। কারাগারের ভেতরে রয়েছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ নিরাপত্তা দেয়াল।
নতুন কারাগারে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে মসজিদ, হাসপাতাল, পাকা রাস্তা, রঙিন ভবন, পার্কিং টাইলসের ফুটপাত এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কারাগারের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে স্থাপিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে আধুনিক ফাঁসির মঞ্চ।
এই কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪ হাজার বন্দি হলেও, বর্তমান অবকাঠামো অনুযায়ী ২ হাজার বন্দি থাকার উপযোগী।