রংপুর অফিস
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৪ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৫৬ পিএম
জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বুঝিয়ে গণভোটে জনগণকে নিয়ে যাওয়া দূর্ভেদ্য ব্যাপার। গণভোট হলো ভবিষ্যত সংসদকে বেঁধে ফেলার অপচেষ্টা। ঐকমত্য কমিশনের ৪৮টি সংস্কার সুপারিশ ৮৪ পাতার প্রতিবেদন।
গণভোটের মাধ্যমে পরবর্তী সংসদকে বেঁধে ফেলা হলে তা সাংবিধানিক ধারাকে ব্যাহত করবে। এটি জাতীয় সংসদ, নির্বাচন ব্যবস্থাকে অপমানিত করবে। এমন বিকলাঙ্গ চিন্তা থেকে ঐকমত্য কমিশন, অন্তর্বর্তী সরকার ও গণভোটের পক্ষে থাকা দলগুলোকে ফিরিয়ে আনতে হবে। শনিবার (১ নভেম্বর) রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অন্তর্ভূক্তিমূলক করতে হবে। দেশের ইতিহাসে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাপা, জাসদ ও আওয়ামী লীগ মিলে ৫০ ভাগ ভোট পেয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষকে নির্বাচন ও সংস্কার প্রক্রিয়ার বাইরে রাখলে ভবিষ্যতে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এটি ঠেকাতে সরকারের উচিত সব দলকে নিয়ে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা।
তিনি বলেন, কিছু দল ঐকমত্য কমিশনের অনুষ্ঠানে স্বাক্ষর করে এক ধরনের ফাঁদে পড়ে গেছে। আজ তারা ঐকমত্য কমিশনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে বলছেন। আমরা এমন ঐকমত্য কমিশন চাইনি। অনেক কাজ করলেও তারা ঐকমত্য সৃষ্টি করতে পারেনি।
জাপা মহসচিব বলেন, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বলা ন্যক্কারজনক কথা। বর্তমানে দেশে স্বৈরাচারী সংস্কার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫৬টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়ায় ৩০টি দলকে ডাকা হয়েছে। দলগুলোর মধ্যে অনেক মতবিরোধ রয়েছে। অনেকে দাবি করেছে, আগে গণভোট, পরে নির্বাচন। সংবিধানের ছাত্র হয়ে বলতে পারি, সংবিধানে গণভোটের নিয়ম নেই।
প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি প্রশাসনকে ভাগ করে নিয়েছে। নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো সাজাতে হবে ভোটের আগে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপার কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা আজমল হোসেন লেবু প্রমুখ। পরে জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী জেলা ও মহানগরের কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন।