নুপা আলম, কক্সবাজার
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:২৩ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফ কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সাহিত্যিক শামসুল আলম হত্যাকাণ্ড শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ১১ বছরে পা রাখল। ২০১৪ সালের এই দিনে নিজ গ্রামে প্রকাশ্যে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যার ১১ বছরেও শেষ হয়নি এর বিচার। বরং জমিনে থাকা অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। এমনকি মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী স্কুলশিক্ষিকা দিলসাদ বেগমকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
নিহত শামসুল আলম টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়ার মৃত ফজল করিমের ছেলে। তিনি টেকনাফ কলেজের প্রতিষ্ঠাতাকালীন থেকে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তার লেখা একাধিক উপন্যাস রয়েছে।
মামলার নথিপত্র ও মামলার বাদী দিলসাদ বেগমের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে প্রকাশ্যে শামসুল আলমের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু পথেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর দিলসাদ বেগম বাদী হয়ে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পরের বছর পুলিশ ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। যেখানে তিনজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলাটি বর্তমানে অতিরিক্ত সিনিয়র জজ আদালত-২-এ বিচারাধীন রয়েছে। ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুর রশিদ বলেন, অধ্যাপক শামসুল আলম হত্যা মামলার প্রায় সব সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়েছে। এর বাইরে আরও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করছে আসামি পক্ষ। ফলে সাক্ষ্য নেওয়া যাচ্ছে না। আগামী নির্ধারিত দিন হাইকোর্ট নির্দেশনা না আসলে ওই সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ মামলার এজহারে অভিযুক্ত ৬ নম্বর মৃত তমিজুর রহমানের ছেলে শাহাব উদ্দিন, শাহাব উদ্দিনের দুই ছেলে আলা উদ্দিন ও রিয়াজ উদ্দিনকে অব্যাহতি দেওয়া হলে ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত আসামির কেউ বর্তমানে কারাগারে নেই। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মামলাটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টায় আছি। আশা করছি একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
মামলার বাদী দিলসাদ জানান, জামিনে মুক্তি পাওয়া মো. হাসান ইতোমধ্যে মারা গেছেন। ঘটনার ১১ বছরে বিচারকার্য দেরি হওয়ায় সাক্ষীসহ তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত আসামিরা এক সময় আওয়ামী লীগের পরিচয়ে দাপট দেখাতেন। এখন তারা অন্য রাজনৈতিক পরিচয়ে দাপট দেখাচ্ছেন।
টেকনাফ কলেজের অধ্যাপক সন্তোষ কুমার শীল বলেন, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ১১ বছরেও এ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া দুঃখজনক। একজন সহকর্মী শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রকে বিচার নিশ্চিত করার আবেদন জানাচ্ছি।
টেকনাফ কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সিরাজুল হক সিরাজ বলেন, শিক্ষাবিদ শামসুল আলমের বিচার এখন টেকনাফের সব শ্রেণিপেশার মানুষের দাবি। সবাই অপেক্ষা করছেন এর ন্যায়বিচারের। ১১ বছর ধরে এই বিচার শেষ না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থ। এটা দ্রুত সমাধান চাই সবাই।