হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৫৭ পিএম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৫৯ পিএম
প্রতিকী ছবি।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ধান ক্ষেত থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ওই আসামির লাশ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে তাকে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারে দাবি, পুলিশ ও বাদী মিলে হত্যা করেছে আসামিকে। উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসামির নাম আবু সাদাদ সায়েম (৫০)। তিনি ওই গ্রামের মোসলেম উদ্দিন বিল্লালের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে তার ছোট ভাই মোজাম্মেল হোসেনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। সম্প্রতি এ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে মোজাম্মেল থানায় মামলা করেন। বৃহস্পতিরবার রাতে হালুয়াঘাট থানার এসআই মানিকের নেতৃত্বে মোসলেম উদ্দিনের বাড়িতে আসামি ধরতে অভিযান চালায়। এ সময় আবু সাদাদ সায়েম ঘর থেকে বের না হলে পুলিশ গ্রিলের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে তিনি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
পরে তার বাবা অনেক খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার ভোরে বাড়ির পেছনে ধান ক্ষেতে ছেলের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে আত্মীয়দের সহায়তায় বাড়িতে নিয়ে হাত- পায়ে তেল মালিশ করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা মোসলেম উদ্দিন বিল্লাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছোট ভাই মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে আমার জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এর ফলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে থানায় তারা মামলা করে। কিন্তু আগামী রবিবার আমার বড় ও ছোট ছেলের জামিন হওয়ার কথা ছিল।
এ বিষয়ে নিহতের ভাই জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, এসআই মানিকের সহায়তায় বাদী পক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করে ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে যায়। অথচ মামলায় আমাদের গ্রেপ্তার করবে না বলে ত্রিশ হাজার টাকা নেন ওই এসআই। আমার প্রশ্ন, পুলিশ কিভাবে গ্রিলের তালা ভেঙে গভীর রাতে ঘরে আসতে পারে? আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার এসআই মানিক মিয়া বলেন, আমি আসামি ধরতে যায়, কিন্তু না পেয়ে ফিরে আসি। অর্থলেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, আসামির বাড়িতে কোনো বাদিকে নিয়ে যাননি। আমার নামে যে অপচার চালাচ্ছে, আমাকে তিনি কখনও দেখেনি। তার সঙ্গে কখনও কথা হয়নি। একটা মানুষ যদি এভাবে মিথ্যা কথা বলে আমার এখন কি করার আছে।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।