নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:০৪ পিএম
দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন নোয়াখালীবাসী। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এ সময় নোয়াখালীবাসীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মো. হেলাল উদ্দিন, সংগঠক জুনায়েদ হোসেন, সুমাইয়া আক্তার, নাহিদা সুলতানা ইতুসহ আরও অনেকে। তারা নোয়াখালী বিভাগের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নানা পরিসংখ্যান, প্রশাসনিক যুক্তি এবং জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরেন।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, নোয়াখালী বিভাগ শুধু একটি প্রশাসনিক দাবি নয়, এটি নোয়াখালীবাসীর ন্যায্য অধিকার। ভৌগোলিকভাবে বৃহৎ এলাকা, বিপুল জনসংখ্যা এবং নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নড়াইলসহ আশপাশের অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে পৃথক বিভাগ গঠন এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার অবসান ঘটাতে হলে বিভাগ বাস্তবায়ন জরুরি। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন আরও কার্যকর হবে, জনসেবা পৌঁছাবে তৃণমূলে এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এ সময় হেলাল উদ্দিন কুমিল্লায় নোয়াখালীবাসীর ওপর ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনাও উপস্থাপন করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
হেলাল উদ্দিন বলেন, এই ধরনের হামলা কেবল নোয়াখালী নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের প্রতি আঘাত। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অবগত আছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে এবং নীতিগত আলোচনার জন্য শিগগিরই এটি প্রধান উপদেষ্টার কেবিনেটে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও জানান, দেশের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের কেবিনেট এই দাবিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
নোয়াখালীবাসীর প্রতিনিধিরা এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবি জানান।
নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, নোয়াখালী বিভাগ গঠন হলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চাপ কমবে, কৃষি, শিক্ষা ও শিল্পখাতে আসবে নতুন গতি।