রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:৪১ পিএম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৪৭ পিএম
শান্তি ও মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লাখো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে রাঙামাটির রাজবন বিহারে শেষ হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে প্রয়াত ধর্মগুরু বনভান্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে, ২৪ ঘণ্টায় প্রস্তুতকৃত চীবর দান করা হয়। রাজবন বিহারের ভিক্ষু সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরের হাতে এসব চীবর উৎসর্গ করেন সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার। চীবর উৎসর্গের সময়, ভক্তদের সাধু-সাধু ধ্বনিতে রাজবন বিহার এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে।
এর আগে, রাজবন বিহার প্রাঙ্গণে আসা পূণ্যার্থীদের সামনে, মহাপরিনির্বাণপ্রাপ্ত শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের অমৃত কথার অডিও উপস্থাপন করা হয়।
রাঙামাটি রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমিয় খীসা বলেন, বৌদ্ধদের যত ধরনের দান রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে পূণ্যের দান হলো কঠিন চীবর দান। এ জন্য কঠিন চীবর দানোৎসবকে দানোত্তম চীবর দান উৎসব বলা হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর রাজবন বিহারে প্রায় ২০০ বেইন ও দেড় শতাধিক চরকার সাহায্যে ৬ শতাধিক দায়ক-দায়িকা চীবর বুননের কাজে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া এ বছর ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে ৭৬ জনসহ আমেরিকা, থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকা থেকে বহু পূণ্যার্থী রাঙামাটি রাজবন বিহারের ৪৯তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় মহাউপাসিকা বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা রঙ করে কাপড় বুনে তা সেলাই করে চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র) দান করে এই কঠিন চীবর দানের সূচনা করেন প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। এই পদ্ধতিতে দান করলে কায়িক, বাচনিক মানসিকভাবে অধিক পরিশ্রম হয় এবং অধিকতর পুণ্যলাভ হয় বলে বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তিনটিলা বন বিহারের দায়ক-দায়িকাদের দিয়ে এই কঠিন চীবর দানোৎসবের পুনঃপ্রবর্তন করেন।