দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:২৪ পিএম
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা দীঘিনালায় ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। একসময় এই রোগ শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক হলেও এখন এই ভাইরাসজনিত রোগ গ্রামীণ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে প্রায় ৫০ জন ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে কেউ কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তবে বেশিরভাগই নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই দেশের বিভিন্ন শহরে কাজে গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত হয়। এলাকায় ফিরে এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে অনেকের ডেঙ্গু সনাক্ত হয়। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেই অসচেতনতার কারণে ঠিকমতো মশারী ব্যবহার না করে খোলামেলা থাকে, এতে তাদের মাধ্যমে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী জানান, আমি কিছুদিন আগে ঢাকায় গিয়েছিলাম। ফিরে আসার দুদিন পর জ্বরে আক্রান্ত হই। পরে পরীক্ষা করে দেখি ডেঙ্গু পজিটিভ এসেছে। এখন চিকিৎসা নিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছি।
ডেঙ্গু নিয়ে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি গন্ধরাজ ত্রিপুরা বলেন, গত ৪-৫ দিন যাবত জ্বর, পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি, এর আগে গত একমাস চট্টগ্রামে ছিলাম।
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার বলেন, আগে ডেঙ্গু মূলত শহরকেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু এখন এটি প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে আক্রান্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসছেন, এজন্য জনসচেতনতা বাড়ানো সবচেয়ে জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত দুপুর ও বিকালের দিকে কামড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সবসময় মশারীর মধ্যে থাকতে হবে। তাই এই সময়গুলোতে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে জমানো পানি যেন না থাকে, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল উপায় হলো পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজনন স্থান ধ্বংস করা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ডেঙ্গু নির্মূলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।