কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৫৪ পিএম
কুমিল্লার চান্দিনায় সৎ মাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত হালিমা খাতুন (৩৪) সব্দলপুর গ্রামের এমদাদুল হক মুন্সির স্ত্রী। ঘাতক শাহিন মুন্সি নিহতের সৎ ছেলে ও এমদাদ মুন্সির চতুর্থ ছেলে।
জানা যায়, সব্দলপুর গ্রামের এমদাদুল হক মুন্সির (৭৫) প্রথম স্ত্রী মারা যান প্রায় তিন বছর আগে। তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে ছিল। তারা সকলেই বিবাহিত। চার ছেলে সৌদী আরব প্রবাসী। ছোট ছেলে শাহিন মুন্সি গত আট মাস আগে দেশে আসে। এদিকে, গত দুই মাস আগে এমদাদ মুন্সি দাউদকান্দির জয়নগর গ্রামের হালিমা খাতুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করেন।
এমদাদুল হক মুন্সি জানান, আমি রাত ১১টায় প্রাকৃতিক ডাকে সারা দিতে শৌচাগারে যাই। এ সময় আমার স্ত্রী ঘুমাচ্ছিল। পাশের কক্ষে ছোট ছেলে শাহিন ছিল। আমি বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করে দেখি আমার স্ত্রী বিছানায় কাতরাচ্ছেন এবং সারা বিছানা রক্তে রঞ্জিত। চিৎকার দিলে পুত্রবধূরাসহ অন্যান্যরা ছুটে আসার পর আমি অ্যাম্বুলেন্স যোগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিই। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তৃতীয় পুত্রবধূ শিরিনা আক্তার জানান, আমরা অন্য ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার শ্বশুরের ডাক-চিৎকারে শুনে এসে দেখি শাহিন ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের শ্বশুর কান্নাকাটি করছে। আমার সৎ শাশুড়ি রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে।
বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ জানান, এমদাদুল হক মুন্সি আমার খুব কাছের আত্মীয়। তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করানোর পর পরিবারের কারও কোন আপত্তিও ছিল না। কি কারণে, কেন সৎ মাকে হত্যা করেছে তা কেউ বলতে পারছে না। এ ঘটনার পর শাহিন পালিয়ে যায়।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। স্বামী এমদাদ মুন্সি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।