ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৫৮ পিএম
ভৈরবকে জেলা করার দাবিতে কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন করছেন এলাকাবাসী। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নৌপথ, রেলপথ ব্লকেডসহ নান ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। তবে নিরাপত্তার শঙ্কা দেখিয়ে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আন্দোলনকারী নেতারা। বুধবার (২৯ অক্টোবর) ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্র নেতা মো. সাইফুর রহমান শাহরিয়ার ও গণ অধিকার পরিষদ নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল।
এ বিষয়ে জেলা আন্দোলনের অন্যতম নেতা মো. সাইফুর রহমান শাহরিয়ার তার ব্যবহৃত ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, অল্প সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার কারণে বৃহস্পতিবারের প্রোগ্রাম পেছানো হয়েছে। পরবর্তী তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আন্দোলন চলমান থাকবে।
এ বিষয়ে জেলা আন্দোলনের আরেক অন্যতম নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, আন্দোলন করতে গিয়ে যেহেতু একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তাই আমরা ভৈরব সর্বস্তরের নেতাকর্মী, ছাত্র ও যুবসমাজকে একসাথে নিয়ে নতুন ভাবে জেলা বাস্তবায়ন কমিটি করে জেলার আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরা ২৯ অক্টোবরের সড়ক, রেল ও নৌপথ একযুগে ব্লকেড কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেছি। নতুন কর্মসূচি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভৈরববাসীকে জানিয়ে দেয়া হবে। এসময় তিনি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ দিকে গত ২৭ অক্টোবর রেলপথ ব্লকেড কর্মসূচি পালনকালে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনার মামলায় সোহেল মিয়া (২৮) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত দুইটায় রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সোহেল শহরের পঞ্চবটি এলাকার মোহাম্মদ আলির ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদ আহমেদ।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে কিশোরগঞ্জ জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় ভৈরবের সর্বস্তরের জনতার মাঝে। এরপর থেকে লাগাতার কর্মসূচি পালন করে ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষ। এর মধ্যে ২৬ অক্টোবর ২ ঘণ্টা সড়কপথ, ২৭ অক্টোবর ১ ঘণ্টা রেলপথ ও সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর নৌপথ ব্লকেড কর্মসূচি পালন করে জেলা আন্দোলনকারীরা।
তবে আন্দোলন করতে গিয়ে ২৭ অক্টোবর রেলপথ ব্লকেড কর্মসূচি পালনকালে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় তারা। ওইদিন সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আন্তঃনগর ননস্টপ উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন আটক করে কঠোর অবরোধ গড়ে তুলে আন্দোলনকারীরা। দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট আটক থাকার পর আন্দোলনকারীদের পরামর্শে ট্রেন হুইসেল দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে। পরে ১টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ওইদিন রাতেই ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ। মামলার পর গত দুইদিনে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
ট্রেন পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় মামলার পর দুইদিনে চারজনের আটকের বিষয়ে রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদ আহমেদ বলেন, মামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন ভিডিও ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাথর নিক্ষেপের সাথে জড়িতদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ২৮ অক্টোবর তিনজন ও আজকে ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।