প্রতিদিনের বাংলাদেশে সংবাদ প্রচার
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:৩৩ পিএম
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:৩৭ পিএম
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামের ৭৮ বছর বয়সি অন্ধ ও প্রতিবন্ধী মেহেরুন নেছার ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে এক সংবাদ প্রতিবেদনকে ঘিরে। একসময় জরাজীর্ণ মাটির ঘরে অসহায় জীবনযাপন করা এই বৃদ্ধা আজ পাচ্ছেন নতুন আশ্রয়Ñ আধাপাকা একটি ঘর।
দেশের খ্যাতনামা দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ তার করুণ জীবনের গল্প প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মানবিক উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে মেহেরুন নেছার জীবন। অন্ধকার ঘর ছেড়ে এবার তিনি দেখছেন আলোর নতুন স্বপ্ন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সরেজমিন দেখা যায়, পুরনো মাটির ঘরটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই। এখন সেখানে নির্মাণ হচ্ছে আধাপাকা বারান্দাসহ একটি মজবুত ঘর। ঘরের অর্ধেক অংশ ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে নির্মিত; ওপরের কাঠামোতে বাঁশ ও কাঠের বাটা, তার ওপরে টিনের ছাউনি। চারপাশে শক্ত টিনের বেড়া দিচ্ছেন শ্রমিকরা। যেন ঘরটি নতুন সাজে সেজে উঠছে নববধূর মতো।
চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক নিয়ে হাসিমুখে বৃদ্ধ মেহেরুন নেসা বলেন, ‘আমি খুব খুশি, আমার নতুন ঘর তৈরি হচ্ছে। এখন আর আমার কোনো কষ্ট থাকবে না। যারা আমার উপকার করল, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবু ছালেহ, কুদ্দুস আলী ও আনোয়ারসহ কয়েকজন বলেন, আমাদের গ্রামের এই প্রতিবন্ধী মানুষটি অনেক কষ্টে ছিলেন। তার ঘরটা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। ঝড়-বৃষ্টিতে ঘুমাতে পারতেন না। সাংবাদিক ভাইয়েরা খবর করার পর এখন নতুন ঘর হচ্ছে। এটা দেখে আমরা সবাই খুব খুশি।
৩নং সিংড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মেহেরুন নেছা একজন অন্ধ ও প্রতিবন্ধী নারী। সংসারে তার কেউ নেই। তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আছে, কিন্তু ঘরটি ছিল একেবারে জরাজীর্ণ। মিডিয়াতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাইলেন্ট হ্যান্ডস সংগঠনটির উদ্যোগে একটি আধাপাকা ঘর তৈরি হচ্ছে। সংবাদটি সত্যিই খুব কাজে এসেছে।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি নিজে মঙ্গলবার মেহেরুন নেছার বাড়িতে গিয়ে চাল-ডালসহ শুকনো খাবার দিয়ে এসেছি। তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ‘সাইলেন্ট হ্যান্ডস’ সংগঠন তার ঘরটি তৈরি করছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় তার পাশে থাকব।