সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ০০:৪৬ এএম
সিলেটে দাবি আদায়ে চার দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে ৬ ঘন্টা পর সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সড়ক ছেড়ে যান তারা।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১১ দফা দাবিতে এদিন দুপুর ১২টায় নগরের চৌহাট্টা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট জেলার আহবানে এই বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
বিক্ষোভ চলাকালে বিকালে শ্রমিক নেতাদের একটি পক্ষ সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে ইউনিয়নের আহবায়ক মাসরুখ জলিল বলেন, পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে আমাদের ১১ দফা জানিয়েছি। কমিশনার দাবি পূরণে সময় চেয়েছেন। আমরা আগামী রবিবার (২ নভেম্বর) পর্যন্ত তাদের সময় দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে।
সিলেট নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিচ্ছিন্নকৃত বিদ্যুৎ লাইন পুনঃসংযোগসহ ১১ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকালে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন রিকশা শ্রমিকরা। এরপর মিছিল নিয়ে এসে চৌহাট্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে অন্য সড়কে যানজট লেগে যায়। এদিকে, শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাখায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনা সদস্য চৌহাট্টা এলাকায় অবস্থান নেয়। দীর্ঘ সময় দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
চৌহাট্টায় সড়ক অবরোধ করে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত অন্যায় ও অমানবিক। এটি প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। তারা জানান, এই বাহন পরিবেশবান্ধব ও নিম্নআয়ের হাজারো মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক মাসরুখ জলিল অভিযোগ করেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই বাহনকে অপপ্রচার চালিয়ে অবৈধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের উচিত ছিল বিআরটিএর মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন ও লাইসেন্স দেয়া।