চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৫৬ পিএম
নিহত ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামে গভীর রাতে যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সাজ্জাদ নামে ছাত্রদলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডের বগার বিলমুখ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এসময় ওই এলাকার বিদুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও দলীয় সূত্র বলছে, ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে নগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা ও নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহর অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে। নিহত সাজ্জাদ নগর বাদশার অনুসারী।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। আহত আছেন বেশ কয়েকজন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দুই পক্ষই সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী। ডা. শাহাদাত ও সিরাজের ছবি সম্বলিয় একটি ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বাদশার অনুসারী যুবদল কর্মী মো. জসিমকে গতকাল রাতে সিরাজের অনুসারী বোরহান উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম সোহেল তুলে নিয়ে যান। এর পরেই সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে আহত অবস্থায় সাজ্জাতকে মেডিকেল নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
জসিম সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন তাঁর ছবি ব্যবহার করে নগরের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের টাঙানো ব্যানার তুলে ফেলার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা মতে বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় লাগানো ব্যানারগুলো খুলে ফেলেন জসিম। এর মধ্যে শাহাদাত ও সিরাজের ছবিসহ বোরহানের ব্যানার ছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল রাতে তাঁকে (জসিম) ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তুলে নিয়ে যায়। তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয়।
জানতে চাইলে সিরাজ বলেন, বোরহান ও সোহেল তাঁর অনুসারী নয়। তিনি এখন পটিয়ায় আগামী নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। বোরহান-সোহেলদের সঙ্গে তার আগে যোগাযোগ থাকলেও এখন নেই।