রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ১২:১৮ পিএম
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন এটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। জানা গেছে, শীঘ্রই মসজিদটির উদ্বোধন করা হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণাধীন এই মডেল মসজিদের ভৌত অবকাঠামো বাস্তবায়ন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুকুরের পাশে নির্মিত হয়েছে মসজিদটি। ৪৫ শতক জমির ওপর প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মসজিদটির নিচতলা ১২ হাজার ১৬৮ স্কয়ার ফিট, প্রথম তলা ৭ হাজার ৮০০ স্কয়ার ফিট এবং দ্বিতীয় তলা ৭ হাজার ৮০০ স্কয়ার ফিট।
মসজিদটিতে রয়েছে নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটি গার্ড রুম, গাড়ি পার্কিং জোন, পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা। এছাড়া রয়েছে শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, লাইব্রেরি, রিসার্চ সেন্টার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কক্ষ, অতিথিশালা, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গণশিক্ষা কেন্দ্র এবং ইসলামি সংস্কৃতি কেন্দ্র। দৃষ্টিনন্দন সাড়ে ৯ তলা বিশিষ্ট মিনার মসজিদটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
নির্মাণ কাজ পরিচালনা করেছে মুক্তা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং কনভয় সার্ভিস জে.ভী নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি। তবে জমি জটিলতা, করোনা মহামারিসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে কাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয়রা মসজিদটি দেখে আনন্দিত এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এটি রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রথম আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ মসজিদ। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলছিল। এখন কাজ শেষ হওয়ায় তারা উদ্বোধনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
জেলা গৃহায়ন ও গণপূর্ত কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানান, সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের অধীনে মডেল মসজিদের নির্মাণ শেষ। উদ্বোধনের পরপরই এটি মুসল্লিদের নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ সপ্তাহে আমরা মডেল মসজিদটি বুঝে নিচ্ছি। লোকবল নিয়োগের কার্যক্রম চলমান। নভেম্বর মাসের মধ্যে লোকবল নিয়োগ সম্পন্ন হবে। আশা করছি অতিদ্রুত মসজিদটি চালু করা হবে।
উদ্বোধনের পর থেকে মসজিদটি শুধু নামাজের জন্য নয়, শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্যও ব্যবহার করা হবে। এতে রায়গঞ্জবাসীর ইবাদত, শিক্ষা ও ইসলামিক সংস্কৃতির চর্চা নতুন মাত্রা পাবে।
স্থানীয়রা বলছেন, মসজিদটি দেখে মন আনন্দে ভরে যায়। এটি শুধু একটি ইবাদতের স্থান নয়, বরং শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের উদ্যোগে এটি আমাদের উপজেলায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এই মডেল মসজিদ উদ্বোধনের পর থেকে স্থানীয়রা আত্মবিশ্বাসী এবং আনন্দিত, কারণ এটি ইসলামী শিক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং নামাজ আদায়ের জন্য এক নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।