মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ২০:২৮ পিএম
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে যানজট নিরসন ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে মাঠে নেমেছেন জেলা প্রশাসন ফৌজিয়া খান। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে জেলা শহরের গৌরাঙ্গ বাজার, রেলওয়ে স্টেশনসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ফুটপাতে বসা হকারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ফুটপাথ ছাড়ার নির্দেশ দেন। হকাররা জেলা প্রশাসকের কাছে পুনর্বাসনের দাবিও জানান।
অভিযানে অবৈধভাবে ফুটপাথ দখলকারী হকারদের দোকান সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনুমোদিত অটোরিকশা ছাড়া পৌরসভার বাইরের ইজিবাইক ও রিকশার প্রবেশ নিষিদ্ধসহ শহরের ১৩টি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার সকালে পৌরসভার গাইটাল শিক্ষকপল্লী সীমান্ত মসজিদ এলাকায় হোল্ডিং ফলক স্থাপনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান। পরে জেলা প্রশাসক রেল স্টেশন পরিদর্শন করে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মুকিত সরকার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক রমজান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে জেলা শহরের গৌরাঙ্গ বাজার, পুরান থানা, একরামপুর, আখড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই থেমে আছে যান চলাচল। কোথাও কোথাও গাড়ি চললেও গতি নেই। প্যাডেলচালিত, গ্যাসচালিতও ও ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে শহরজুড়ে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ যেমন নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি ভয়ানক দুর্ভোগও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিদিনের যানজটের কবলে পড়ে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা।
যানজটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি নারী-শিশুদের। যানজটে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা নানা বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও সময়ের অপচয়ে ব্যাপক অপচয় হচ্ছে। অনেকে পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
এদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়কের দুই পার্শে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন পার্কিং করার পাশাপাশি দোকানের মালামাল ফুটপাথের ওপরে রাখায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে লোকজন ফুটপাথ দিয়ে চলাচল করতে পারছেন না। ফলে সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়।
জেলা শহরের যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলো নতুন ভাবে নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া পৌর শহরের বাইরের কোনো ইজিবাইক বা অটোরিকশা যেন পৌরসভায় ঢুকতে না পারে তার জন্য কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, আমরা কিশোরগঞ্জবাসীকে যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে চাই। যানজট কেবল সময়ের অপচয় নয়। এটি নাগরিক জীবনের মানও কমিয়ে দেয়। শহরকে সবার জন্য চলাচলযোগ্য রাখতে সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। ফুটপাথ পথচারীর জন্য, ব্যবসা বা পার্কিংয়ের জন্য নয়।
প্রশাসনের এই অভিযানে শহরের প্রধান সড়কগুলোয় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং পথচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন কিশোরগঞ্জবাসী। স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।