কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৫৭ পিএম
কুমিল্লার চান্দিনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত গণমিছিলে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা বাস স্টেশন এলাকায় প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিছিলে বক্তব্য দিচ্ছিলেন চান্দিনা উপজেলার নায়েবে আমির ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসেন। তার বক্তব্য চলাকালে একাংশের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্লোগান দিতে থাকেন—‘দল বিক্রি চলবে না’, ‘আওয়ামী দোসর প্রার্থী মানি না’। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা মঞ্চে উঠে প্রার্থীর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন এবং ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দলীয় শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, কিন্তু এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্র জানায়, মাওলানা মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তপন বকশীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলা আমির আব্দুল মতিন ও জেলা সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
চান্দিনা উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি সাজিদ আল আমিন সোহাগ বলেন, জেলা আমির মতিন ও সেক্রেটারি শহীদ টাকা খেয়ে মোশাররফকে প্রার্থী করেছে। সে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রাণ গোপাল দত্ত ও তপন বকশীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। একজন আওয়ামী দালালকে জামায়াতের ব্যানারে প্রতিষ্ঠা দেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর চান্দিনা উপজেলার নায়েবে আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, দল এখন দুই ভাগে বিভক্ত। যার পক্ষে মিছিল হচ্ছে, অন্য পক্ষ তার বিরুদ্ধে মাঠে আছে। আমি কোনো রাজনৈতিক আপস করিনি। স্থানীয় উন্নয়নমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়াকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান— যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, আমন্ত্রণ পেলে অংশ নিতে হয়। তাছাড়া উন্নয়নমূলক কাজে আমাকে অংশ নিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা জেলা সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কুমিল্লা জেলা আমির আব্দুল মতিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।