সালিশের নামে তুঘলকি কাণ্ড
পটুয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সালিশের নামে তুঘলকি কাণ্ড করেছেন ইউপি সদস্য। তার নির্দেশে দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচ তরুণের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টার দিকে মধ্য চতলাখালী গ্রামে শতাধিক মানুষের সামনে এমন ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রেশাদ খলিফা ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি সদস্য রেশাদের সিদ্ধান্তেই এ শাস্তি কার্যকর করা হয়। লাঠি হাতে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর নাপিত মাথা ন্যাড়া করছিলেন। ওই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, মধ্য চতলাখালী গ্রামের মনির গোলদার ও মোজাম্মেল মৃধার মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এনিয়ে শুক্রবার দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এসময় বাবার সঙ্গে মিলে মনিরকে লাঞ্ছিত করেন মোজাম্মেলের ছেলে রিয়ানও। এই জেরে শনিবার রাতে মনির গোলদারের ছেলে রাব্বি ও মোজাম্মেলের ছেলে রিয়ান তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে রিয়ানকে মারধর করে রাব্বি। পরে রিয়ানকে মারধরের ঘটনাটি তার বাবা মোজাম্মেল ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফাকে জানান। এ নিয়ে পরদিন রবিবার সকালে রেশাদ খলিফার উপস্থিতিতে মধ্য চতলাখালীর খুতির বাজার এলাকায় সালিশ বসে। সেখানে দুই পক্ষসহ স্থানীয় লোকজনকে ডেকে এনে তিনি পাঁচ তরুণকে বখাটে আখ্যা দিয়ে মাথা ন্যাড়া করার নির্দেশ দেন। একপর্যায় নিজেই নাপিত ডেকে এনে উপস্থিত থেকে মাথা ন্যাড়া করান। ১৮ বছর বয়সি রাব্বি (কলেজছাত্র), ২১ বছরের রিয়ান, ৭ বছরের রাতুল (মাদ্রাসাছাত্র), ১৯ বছরের শাকিল ও ১৮ বছর বয়সি নয়ন সরদারের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নয়ন সরদার বলেন, ‘আমাদের অপরাধ আমরা রাব্বি ও রিয়ানের মারামারি থামিয়েছি। একারণে সকালে মেম্বার আমাকে ফোন দিয়ে ডেকে নিয়েছে। পরে আমার মাথা ন্যাড়া করে দেয়।’
আরেক ভুক্তভোগী রাব্বি বলেন, ‘রিয়ান ভাইয়ের সঙ্গে আমার মারামারি হয়েছে। রেশাদ মেম্বার ওর (রিয়ান) এবং আমারসহ পাঁচজনের চুল কেটে দিছে। ওরা (তিনজন) মারেনি, ওদেরও চুল কেটে দিছে।’
ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফার নির্দেশে চুল কাটা সেলুনের মালিক স্বপন শীল বলেন, ‘আমারে রেশাদ খলিফা ডাক দিয়ে নিছে। জিরো মেশিন নিয়ে যেতে বলছে। ওদের চুল কেটে দেওয়ার জন্য। তখন তাদের পরিবারের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন।’
ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি জানি না। আমি ছিলাম না।’
গ্রাম আদালতের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. ইমাম হোসেন সায়েম বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে সালিশ করার সুযোগ নেই। সালিশের নামে যে ঘটনাটি শুনেছি, সেটি সম্পূর্ণ আইনবর্হিভূত কাজ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির এমন ক্ষমতা নেই।’
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’