শরীয়তপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:৪৪ পিএম
রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় গতকাল রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৩৬)। তার মরদেহ গতকাল দিবাগত রাত ২টায় বাড়ি আনার পর স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। কেউ যেন এ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেনা। নিহত আবুল কালাম আজাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার পর জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে নড়িয়া উপজেলা শহরের পৌর কবর স্থানে তার বাবার কবরের পাশেই।
এর আগে সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রামের মোক্তারের চর পূর্বপোড়াগাছা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইমরুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
চার ভাইয়ের মধ্যে আবুল কালাম ছিলেন সবার ছোট । স্ত্রী ও দুই শিশু সস্তান নিয়ে বসবাস করতেন নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায়। ঢাকায় তিনি একটি ট্রাভেলস এজেন্সিতে চাকরি করতেন। তার আয়ের একটি অংশ গ্রামের বাড়িতে পাঠাতেন ভাইদের জন্য। রবিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১২ টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় যাওয়ার সময় মেট্রোরেলের বেয়ারিং প্যাড খুলে তার উপর পড়লে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ দিকে ঘটনার পর খবর পেয়ে যোগাযোগ উপদেষ্টা মোঃ ফয়জুল কবীর ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা ও পরিবারের যোগ্য লোককে চাকরি দেয়ার ঘোষণা দেন।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায্য বিচার চায় পরিবার। যাতে করে কারও দায়িত্বের অবহেলার জন্য আর যেন কারও জীবন অকালে চলে না যায়।
বড় ভাই খোকন চোকদার বলেন, আমার উপার্জনক্ষম নিরপরাধ ভাইটি যাদের দায়িত্বে অবহেলার জন্য মর্মান্তিক ভাবে মারা গেছে। আমরা এর সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার চাই।
নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) লাকি দাস বলেন, এ দুর্ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। পাশাপাশি সরকারের উচ্চমহল এ বিষয়ে পরিবারের জন্য সকল ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে সার্বিক সহায়তা করবেন।