রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪৬ এএম
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বন্ধুর স্ত্রীকে তুলে নিতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন তিন যুবক। তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা। আটক তিন যুবকের সাথে ওই নারীর স্বামী থাকলেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
রবিবার (২৬) অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তিন নম্বর চরলরেন্স ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আবু মিয়া সমাজের রফিক মিকারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন, উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শহীদনগর এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মাইনউদ্দিন (২১), মো. কামাল হোসেনের ছেলে মো. ফরহাদ (১৯) ও রিপনের ছেলে ফারুক প্রকাশ (সুকু) (১৮)। তারা তিনজনই পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা।
রাত ১২টার দিকে সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা জানান, আটক তিন যুবকের বন্ধু হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে কলহ চলছিল। যে কারণে স্ত্রী তার বাবার বাড়িতেই থাকতেন। এরইমধ্যে রবিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী তার আত্মীয় রফিক মিকারের বাড়িতে বেড়াতে যান। খবর পেয়ে রাতে স্ত্রীকে তুলে নিতে বন্ধুদের নিয়ে ওই আত্মীয়ের বাড়িতে ছুটে আসেন হেলাল উদ্দিন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জোরপূর্বক স্ত্রীকে ঘর থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালান তারা। এসময় স্ত্রীর চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তেই ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে চারদিকে সোর-চিৎকার শুরু হয়। একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন মুয়াজ্জিন। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে স্বামী হেলাল উদ্দিন দৌড়ে পালিয়ে যান। তবে অপর তিন যুবক (বন্ধু) জনতার হাতে আটক হয়।
আটক তিনজনের একজন মো. মাইনউদ্দিন জানান, তারা তিনজন চরলরেন্স ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শহীদনগর এলাকার পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা। হেলাল তাদের বন্ধু হয়। হেলাল তার স্ত্রীকে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিতে বন্ধু হিসেবে তাদেরকে সঙ্গে এনেছেন। বন্ধুর স্ত্রীকে যেন একটু সুপারিশ করি এজন্যই আমাদের সাথে এনেছেন। কিন্তু বন্ধুর স্ত্রী বিষয়টি সহজে না নিয়ে ডাকাত বলে চিৎকার দেন। যে কারণে গ্রামবাসী তাদেরকে ডাকাত ভেবে আটক করেছেন। মারধরও করেছেন বলে জানান মাইনউদ্দিন।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, আটকদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছে। পরবর্তী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।