× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শীতের আভাসে জমছে গরম কাপড়ের বাজার

এমআর কামাল, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:০৬ এএম

শীতের আগমনের আভাসে এখন সরগরম ‘গার্মেন্টসের শহর’ খ্যাত নারায়ণগঞ্জের উকিলপাড়া, দেওভোগ, নয়ামাটি ও গিরিধারা এলাকার পাইকারি বাজারগুলো। প্রবা ফটো

শীতের আগমনের আভাসে এখন সরগরম ‘গার্মেন্টসের শহর’ খ্যাত নারায়ণগঞ্জের উকিলপাড়া, দেওভোগ, নয়ামাটি ও গিরিধারা এলাকার পাইকারি বাজারগুলো। প্রবা ফটো

‘এইবার শীতটা একটু আগাম আসবে মনে হয়’ কথাটা বলেই হাসলেন দেওভোগ কাটা মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান। তার দোকানে তখন বিক্রির চূড়ান্ত ব্যস্ততা। হাতে সোয়েটার, পাশে শিশুদের হুডিÑ গরম কাপড়ের গন্ধে ভরে আছে দোকান।

বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ বদিউজ্জামান বদু বলেন, নারায়ণগঞ্জের এই মৌসুমি ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলে। প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার গরম কাপড়ের লেনদেন হয় কেবল তিন মাসে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে পরিবহন, শ্রম, গুদাম, ফিনিশিং ও রঙের ব্যবসা। এই সিজনেও ১০০ কোটি টাকার ব্যবসার টার্গেট রয়েছে হোসিয়ারি মালিকদের।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, অক্টোবরের শেষ থেকেই দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শীতের আগমন ঘটবে। সেই আভাস ঘিরেই এখন সরগরম নারায়ণগঞ্জের পাইকারি বাজারগুলোÑ উকিলপাড়া, দেওভোগ, নয়ামাটি ও গিরিধারা এলাকা উৎসবমুখর কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা ছুটে আসছেন ‘গার্মেন্টসের শহর’ খ্যাত নারায়ণগঞ্জে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে আসা পাইকার তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় বা টঙ্গীতে যে দামে পাই না, নারায়ণগঞ্জে সস্তায় পাই, ডিজাইনও ভালো। শিশুদের ফ্লিস জ্যাকেট, হুডি, উলেন সোয়েটার, টুপি, গ্লাভস সবকিছুর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।

বিক্রেতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই সময়টা আমাদের বছরের সেরা মৌসুম। ঈদের পর থেকে পুরো বছর আমরা অপেক্ষা করি শীতের সিজনের জন্য। এই সময় ভালো বিক্রি হলে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।

এসব কারখানায় বছরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার শ্রমিক মৌসুমি ভিত্তিতে কাজ করেন। বিশেষ করে শীতের আগে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এইসব কারখানায় কাজের চাপ বেড়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জের গরম কাপড় শিল্পের ইতিহাস সত্তরের দশক থেকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছোট লটে ফ্লিস, উল, এক্রিলিক ও সুতা আমদানি করে নিজেদের উৎপাদন চেইন তৈরি করেন। এলাকার দেওভোগ, মুসলিমনগর, পাইকপাড়া, নবাবপুর ও চাষাঢ়া এলাকার প্রায় তিনশর বেশি ছোট ও মাঝারি গরম কাপড় কারখানা আছে। বর্তমানে তিন শতাধিক ছোট-বড় কারখানায় প্রায় ২৫-৩০ হাজার শ্রমিক মৌসুমভিত্তিতে কাজ করেন।

কারখানা মালিক বেলাল হোসেন বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে রাত-দিন কাজ করছি। এ সময়ই আসল ইনকাম। তবে উৎপাদনব্যয় বেড়েছে। সুতা ও ফ্লিসের দাম বেড়েছে ২০-২৫ শতাংশ।

বিক্রেতা কামরুল হাসান বলেন, গত বছর যে সোয়েটারটা ২৫০ টাকায় বানাতাম, এ বছর সেটা ২৯০ টাকায় পড়ছে। কিন্তু পাইকাররা আগের দামে কিনতে চায়। ফলে মার্জিন কমে গেছে।

নয়ামাটির ব্যবসায়ী ফিরোজ হক বলেন, বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করছিÑ বাজারটা টিকিয়ে রাখতেই।

পাইকারি বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে শিশুদের পোশাক। কারণ অভিভাবকরা সবার আগে সন্তানদের জন্য শীতের প্রস্তুতি নেন। দ্বিতীয়ত, কিশোর ও তরুণদের হুডি, জ্যাকেট ও সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে বেশি। বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুল খুলবে নভেম্বরের শুরুতে। তাই এখন থেকেই অভিভাবকরা পাইকারদের দিয়ে স্কুলড্রেস ধাঁচের জ্যাকেট নিচ্ছেন।

নয়ামাটির একটি কারখানার ভেতরে চলছে নিরবচ্ছিন্ন মেশিনের শব্দ। সারি সারি নিটিং মেশিনে তরুণ শ্রমিকরা কাজ করছেন টুপির বুনন, হাতমোজার সেলাই, সোয়েটারের বোতাম লাগানো সব মিলিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা। শ্রমিক মমতাজ বেগম বলেন, এই সময়টা ভালো যায়, বেতনও কিছু বাড়ে, তবে ডিসেম্বরের পর আবার কাজ কমে যায়।

তরুণ শ্রমিক রাজিব বলেন, আমরা সারা বছর পার্ট টাইম কাজ করি, কিন্তু শীতের আগে ও শীতের মধ্যে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ হয়, ইনকামও ভালো। 

শ্রম অধিকার নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, এই মৌসুমি শ্রমিকরাই নারায়ণগঞ্জের অর্থনীতির বড় শক্তি, কিন্তু তাদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই।

উকিলপাড়া মার্কেটের প্রবীণ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা বলেন, গত কয়েক বছর শীত একেবারে দেরিতে এসেছে। শীত না পড়লে স্টক পড়ে থাকে, লাভ তো দূরের কথা, পুঁজিও ফেরত আসে না।

নয়ামাটির তরুণ উদ্যোক্তা সোহাগ জানান, এখন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে অর্ডার নিচ্ছি। কুরিয়ারে সারা দেশে মাল পাঠানো যায়।

ফতুল্লার গৃহিণী লিজা হোসেন বলেন, আমি উলেন জ্যাকেট ও সোয়েটার বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করি। কাপড় সব নারায়ণগঞ্জ থেকেই আনি। এখন পাইকারদের কাছ থেকে ভালো ডিসকাউন্ট পাই।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, শীতের মৌসুমে রিকশাচালক থেকে হকারÑ সবাই লাভবান হয়। কিছু উদ্যোক্তা দক্ষিণ এশিয়ার বাজারেও প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বস্ত্র প্রস্তুতকারক সমিতির নেতা রুহুল আমিন বলেন, আমরা এখন রপ্তানি অনুমোদনের জন্য কাজ করছি। স্থানীয়ভাবে তৈরি সোয়েটার ও ফ্লিস জ্যাকেটের মান খুব ভালো। সরকার করছাড় দিলে আমরা নেপাল-ভুটানেও রপ্তানি শুরু করতে পারব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা