বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৫৫ পিএম
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পটুয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে আবারও মাছ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ তারা।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, ছোট ছোট নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা। কিন্তু জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ।
জেলেরা জানান, ইলিশের ভরা মৌসুমেও তেঁতুলিয়া নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ ধরা পরেনি। মৌসুম শেষেই শুরু হয় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান। টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২৬ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ তারা।
উপজেলার চর কালাইয়া গ্রামের মফিজ বলেন, ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে নামিনি। কিন্তু এখন নদীতে নেমেও তেমন মাছ পাচ্ছি না। যে পরিমাণ মাছ পাওয়ার আশা করেছিলাম, তা মিলছে না। আরেক জেলে জয়নাল ফরাজি বলেন, মৌসুমেও তেমন মাছ পাইনি। নিষেধাজ্ঞার সময় অনেক কষ্টে সংসার চালিয়েছি। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নেমে তেমন মাছ পাচ্ছি না। এমন হলে সংসার চলবে কিভাবে তা বুঝতে পারছি না।
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর ২২ দিনের জন্য সারা দেশে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এ বছর ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন তেঁতুলিয়া নদীতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম. এম. পারভেজ জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে নদীতে ১১৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে আইন অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে ১০০ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার পর সাগরে ফিরে যায়, সে কারণেই হয়তো নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে কম।