ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:১২ পিএম
জেলা, জেলা, জেলা চাই; ভৈরবকে জেলা চাই; ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর, কিশোরগঞ্জ নো মোর; ইন্টেরিম সরকার, জেলা মোদের দরকার, স্লোগানে উত্তাল ভৈরবের রাজপথ। জেলার দাবিতে ২ ঘণ্টা অবরোধ করে ঢাকা-সিলেট ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছে ভৈরবের সর্বস্তরের জনতা।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে সকাল ১০টা থেকে ১২ পর্যন্ত সড়কে বাঁশ ফেলে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
দীর্ঘ দুই ঘণ্টার অবরোধে ঢাকা-সিলেট ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে ৫ মাইল রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বলেন্টিয়াররা অ্যাম্বুলেন্স ও বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখলেও ভুগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
অবরোধ ভৈরবের সর্বস্তরের জনতার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে যোগ দেন ভৈরব বিএনপিসহ সকাল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা, গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস, জামায়াতে ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভিপি মুজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম, ছাত্রনেতা মোহাম্মদ জাহিদুল, মওলানা শাহরিয়ার, গণঅধিকার পরিষদ নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, গোলাম মহিউদ্দিন, মুহাম্মদ জুনায়েদ, মুহাম্মদ ফাহিম, মুহাম্মদ আবির প্রমুখ।
এরপরও যদি দাবি মানা না হয়, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ ঘোষণা, দাবি মেনে না নিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, কিশোরগঞ্জের নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বাজিতপুরের নেতা আফজাল ও নরসিংদীর নেতা রাজিউদ্দিন রাজুর ষড়যন্ত্রের কারণে ভৈরব জেলা হয়নি। ২০০৯ সালে প্রস্তাবিত জেলা হওয়ার পর ভৈরবের কিছু সুবিধাভোগী ও আওয়ামী দোসরদের কারণে ভৈরব জেলা হয়নি। তবে ইদানিং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে নতুন করে বিভাগ ঘোষণা দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই সরকার যদি বিভাগ দিতে পারে তাহলে ভৈরবকেও জেলা দিতে পারবে।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভৈরব হয়ে ঢাকায় গ্যাস যায়, ভৈরব হয়ে বিদ্যুৎ যায়। আজকে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আগামীদিন গ্যাস বিদ্যুৎ বন্ধ করে ঢাকা অচল করে দেওয়া হবে। আজকে দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আগামীদিন অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়কপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে ২৭ অক্টোবর রেলপথ ও ২৮ অক্টোবর নৌপথে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময় বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভৈরববাসীর দাবি মেনে নিয়ে জেলা ঘোষণার দাবি জানান।