বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২৫ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩০ পিএম
বান্দরবানের দুর্গম উপজেলা থানচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১টি দোকান পুড়ে গেছে। শনিবার (২৫অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের বলিবাজারে এ ঘটনা ঘটে। দেড় বছরের ব্যবধানে এটি এলাকায় দ্বিতীয় বড় অগ্নিকাণ্ড।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাজারের একটি খাবারের হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলোতে।
বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি অংসিংম্যা মারমা বলেন, সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি আগুন জ্বলছে। অনিল কান্তি দাশের খাবারের হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
৭০ বছর বয়সী দোকান ব্যবসায়ী হ্লায়ইংচিং মারমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবারে, ২০২৩ সালে একবার আগুনে ৫০টি দোকান পুড়েছিল। আজ আবারও পুড়লো। এ যেনো শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ফেললাম।
থানচি ফায়ার স্টেশনের লিডার পিয়ার মোহাম্মদ জানান, রাত সোয়া ২টায় খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিই। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা জানান, আগুনের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে চলে এসেছি। স্থানীয়দের নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিচ্ছি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে বলিবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০টি দোকান ও বেশ কয়েকটি বসতঘর পুড়ে গিয়েছিল। দেড় বছরের ব্যবধানে আবারও আগুন লাগায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বাজার এলাকায় স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব এবং বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটই এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির কারণ হতে পারে। তারা থানচি অঞ্চলে অগ্নি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থায়ী ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান।