মধ্যাঞ্চলীয় ব্যুরো ও রাঙ্গামাটি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৫২ পিএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চারদিকে তখন বিজয়ের ধ্বনি। আকাশে-বাতাশে বইছে উল্লাস। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে মুক্তিকামী বাঙালি পেলো স্বাধীনতা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। দিনটি ছিলো ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর। দীর্ঘ প্রতিক্ষা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে একটি জাতি।
কিন্তু তখনও পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়নি দেশের কিছু অঞ্চল। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ ও রাঙামাটিসহ দেশের কয়েকটি জেলা হানাদারমুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর।
১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিশোরগঞ্জ শহর ত্যাগ করে। এর পর কিশোরগঞ্জ মহুকুমার ১৩টি থানায় রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও মুজাহিদ বাহিনীর সদস্যরা জড়ো হয়ে কিশোরগঞ্জ শহরে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী চারদিক ঘিরে শহরের দিকে এগোতে শুরু করে। এ সময় তারের ঘাট ও প্যারাভাঙা এলাকায় ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে দখলদার বাহিনীর দোসরা পিছু হটে।
এক পর্যায়ে দখলদার বাহিনীর দোসররা আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়। এতে রক্তপাত এড়াতে চারদিক ঘেরাও করে ১৭ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী। ১৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিবাহিনী শহরে প্রবেশ করে। তখন আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে দখলদার বাহিনীর দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী।
এখনও সেই স্মৃতি মনের গহীনে লুকিয়ে রেখেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.আনোয়ার কামাল। তিনি বলেন, ‘রাজাকার-আলবদর বাহিনী আত্মসমর্পণ করার পর মুহূর্তেই বদলে যায় শহরের চিত্র। যেদিকেই তাকাই দেখি কেবল আনন্দ মিছিল আর আনন্দ মিছিল। বিজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠে পুরো শহরবাসী। এর পরই পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে কিশোরগঞ্জের আকাশে উড়ানো হয় স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের রক্তিম পতাকা।’
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে শক্ত অবস্থানে ছিলো রাঙ্গামাটির মুক্তিবাহিনী। ১৯৭১ সালের ৫ মে মাত্র ২৫ জন সদস্য নিয়ে ১ নম্বর সেক্টরের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা দল গঠন করা হয়। সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা। এর পর শুরু হয় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর সম্মুখযুদ্ধ।
১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পনের দিন পাককিস্তানি সেনাবাহিনী সরে গেলেও তাদের মিত্রবাহিনী হিসেবে লুসাই ও মিজো সৈন্যরা রাঙামাটিতে শক্ত অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে এক দিন পরেই পিছু হটে মিজো বাহিনীর সদস্যরা। ১৭ ডিসেম্বর রাঙামাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ পেয়ারা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মনিষ দেওয়ান।