খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:০১ পিএম
গভীর ধর্মীয় আবহ, বর্ণাঢ্য আয়োজন ও ভক্ত-শ্রদ্ধালুদের অংশগ্রহণে খাগড়াছড়ি শহরের কল্যাণপুর কেন্দ্রীয় মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হলো ৩৩তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে বিহার প্রাঙ্গণজুড়ে সৃষ্টি হয় এক শান্তিময় ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দানোৎসবে অনুষ্ঠিত হয়Ñ বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘ দান, কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান ও ধর্মসভা। সকাল থেকেই হাজারো ভক্ত-শ্রদ্ধালু দান, প্রার্থনা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে পুণ্যলাভের আশায় মগ্ন ছিলেন।
অনুষ্ঠানে খবং পড়িয়া দশবল বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ অগ্রজ্যোতি মহাস্থবির সভাপতিত্ব করেন। প্রধান জ্ঞাতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ খবং পড়িয়া আদর্শ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ নন্দপ্রিয় মহাস্থবির।
এছাড়া অনুষ্ঠানে লঙ্কারাম বিহারের অধ্যক্ষ রতনানন্দ স্থবির, পতেঙ্গা শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ শাক্যতিলক স্থবির,পারদর্শী বড়ুয়া,পনেল বড়ুয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, ভিক্ষুসংঘ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপাসক-উপাসিকারা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মসভায় ভিক্ষুসংঘ কঠিন চীবর দানের ঐতিহ্য ও তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা বৌদ্ধ ধর্মের তিন মূল ভিত্তিÑ শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কঠিন চীবর দান শুধু একটি দান নয়, এটি হচ্ছে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ত্যাগ ও পুণ্য অর্জনের এক অনন্য প্রকাশ।
দিনব্যাপী চলা এই উৎসবে ভক্তরা সকালে সংঘ দান ও বুদ্ধপূজার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। দুপুরে ধর্মসভা ও কঠিন চীবর দানের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আলোচনা ও কল্পতরু দান অনুষ্ঠান।
ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক শান্তিপূর্ণ মিলনমেলায়। বৌদ্ধ পরিবারগুলো নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দান ও সেবার মাধ্যমে পুণ্য সঞ্চয়ে অংশ নেন। বিহারের চারপাশে ছিল আলোকসজ্জা, ফুল ও ধর্মীয় পতাকায় সজ্জিত রঙিন পরিবেশ।
উৎসব শেষে উপস্থিত সকল ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এই আয়োজনে অংশ নিয়ে এক ভক্ত বলেন, ‘প্রতি বছর এই দিনে এখানে এসে মনে হয় শান্তি পাই। এই দানোৎসব আমাদের পারস্পরিক ঐক্য, দানশীলতা ও ধর্মীয় চেতনার প্রতীক।’
এভাবেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিময় পরিবেশে সমাপ্ত হয় খাগড়াছড়ির কেন্দ্রীয় মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের ৩৩তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব।