মেহেদী হাসান, রামপাল (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪৬ এএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪৭ এএম
রামপালে মাছের ঘেরের আইলে সবজি চাষে কৃষকদের সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। প্রবা ফটো
রামপাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছের ঘেরের আইলে স্থানীয় কৃষকরা সবজি চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছেন। আগে যে জমি বছরের বেশিরভাগ সময় পড়ে থাকত। কোনো চাষাবাদ হতো না। এখন কৃষকরা সেই জমিতে সারা বছর চাষাবাদ করে আয় করছেন। এতে তারা সচ্ছলতার মুখ দেখছেন। বদলে যাচ্ছে রামপালের গ্রামীণ অর্থনীতি।
রামপালের গৌরম্ভা, পেড়িখালী, রামপাল সদর, রাজনগর, বাইনতলা, উজলকুড়, হুড়কা, মল্লিকের বেড় ও ভোজপাতিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় ঘেরের আইলে লাউ, করলা, ঢেঁড়স, ঝিঙা, শসা, কুমড়া, বেগুনসহ নানা প্রজাতির সবজি চাষ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে মাছ ও সবজি উৎপাদনের ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে কৃষকদের বাড়তি লাভ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে শুধু মাছের ওপর নির্ভর করতাম। এখন ঘেরের আইলে সবজি লাগিয়ে প্রতি মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। এতে সংসারের খরচ অনেকটা মেটে।
আরেক কৃষক সুফিয়া বেগম বলেন, আমি ঘেরের ধারে করলা ও লাউ লাগিয়েছি। বাড়ির কাজ সামলে এগুলোর যত্ন নিতে কষ্ট হয় না। প্রতিদিন কিছু না কিছু বিক্রি হয়। ফলে হাত খরচও উঠে আসে।
রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষকদের ঘেরের আইলে সবজি চাষে উৎসাহিত করছি। কোনো জমি যাতে পতিত না থাকে, মাছ চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। বরং একসঙ্গে দ্বিগুণ লাভ হয়। বর্তমানে এই পদ্ধতি রামপালের বিভিন্ন ইউনিয়নে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে সবজি চাষে কীটনাশকমুক্ত ফসল উৎপাদনের দিকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বীজ, সার ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, প্রতিটি ঘেরের আইল সবুজে ভরে উঠুক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রামপালের প্রায় ৪৬৫ হেক্টর ঘেরের আইলে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এই পদ্ধতি তাদের আয় বাড়িয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে সচেতন কৃষকরা মনে করছেন, সরকারের আর্থিক সহযোগিতা ও সঠিকভাবে প্রণোদনা বিতরণ নিশ্চিত হলে উপজেলায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই একটি ‘আইলভিত্তিক সবজি উৎপাদন মডেল অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে উঠবে।
কৃষকরা আরও দাবি করেন, সরকার কৃষি খাতে যে বীজ বা ভর্তুকি দিচ্ছে, তা যেন প্রকৃত কৃষকরা পায়, এটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে। কৃষক আরও উৎসাহী হবে।
রামপালের কৃষিবিদরা মনে করেন যদি এই ধারা চলতে থাকে, তাহলে ঘেরের আইলভিত্তিক সবজি চাষ রামপালকে বাগেরহাট জেলার অন্যতম কৃষি উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।