মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:৩৯ পিএম
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে ও মাদক কিনতে টাকা না দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা আবদুল মালেককে (৮২) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে আব্দুল আওয়াল ওরফে বাদলকে (৪২) নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ র্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আশরাফুল কবির।
এর আগে বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার চট্টগ্রাম রোডের একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আব্দুল আওয়াল ওরফে বাদল করিমগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম নয়াকান্দি গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।
মো. আশরাফুল কবির জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আব্দুল আওয়াল বাদল প্রায়ই তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তার স্ত্রী তিন মাস আগে তিন সন্তানকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে এবং মাদকের টাকার জন্য বাদল তার বাবাকে চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে গত ১৬ অক্টোবর বিকালে তার বাবাকে খুন করারও হুমকি দেন বাদল।
তিনি জানান, গত ১৭ অক্টোবর সকালে ছোট ছেলের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ঘরে বসে কথা বলছিলেন আব্দুল মালেক। এ সময় ছুরি হাতে বাদল ঘরে ঢুকে প্রথমে অন্যদেরকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তার বাবা আব্দুল মালেকের বুকে ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যান বাদল। পরে পরিবারের লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত মালেকের ছোট ছেলে খোকন মিয়া বাদী হয়ে গত ১৯ অক্টোবর করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার বড় ভাই আব্দুল আওয়াল ওরফে বাদলকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়।
আশরাফুল কবির আরও জানান, বাদল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করেছে। তাকে করিমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।