ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৩৬ পিএম
ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নে টিসিবি ট্রাকসেল থেকে নিম্নমানের চাল নিচ্ছেন ক্রেতারা বুধবার দুপুরে তোলা। প্রবা ফটো।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে টিসিবিতে চাল বিক্রিতে অনিয়ম ধরা পড়েছে। কম দামে চাল বিক্রির নামে পচা, পোকাধরা, দুর্গন্ধযুক্ত নিম্নমানের চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে টিসিবির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) উপজলার দাঁতমারা ইউনিয়নের টিসিবি ডিলার রহমান অ্যান্ড ব্রাদার্স এসব পচা চাল বিক্রি করছে।
ভোক্তারা পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত এসব চাল নিতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন। তারপরেও ক্রেতাদের বাধ্য করা হয়েছে এসব চাল নিতে। নিম্নমানের চাল বিক্রির অভিযোগ স্বীকার করলেও এর দায় নিতে আপত্তি জানিয়েছেন টিসিবি পণ্যে সরবরাহকারী ডিলার মেসার্স রহমান অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক এসএস মোর্শেদুল আমিন। তিনি বলেন, উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে যেমন চাল দিয়েছে আমরা তেমনটাই বিক্রি করছি।
জানা যায়, দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১ হাজার ১৩ জন ভোক্তা টিসিবির কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কেনেন। প্রতিজন ভোক্তা প্রতিটি প্যাকেজে দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি ও পাঁচ কেজি করে চাল ক্রয় করতে পারেন, যার দাম ৫৪০ টাকা। কিন্ত এসব পণ্যের মধ্যে চিনি, ডাল ও তেল মান ভালো থাকলেও খাওয়ার অযোগ্য চাল বেচা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে দাঁতমারা ইউনিয়নের টিসিবির পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, কার্ডধারীরা সব থেকে রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে মালপত্র কিনছেন। বেচা হচ্ছে নিম্নমানের চাল। এ চাল পেয়ে কার্ডধারীরা তা পাশের দোকানেই কম দামে বেচে দিচ্ছেন। আবু আহমদ নামে একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সরকারের দেওয়া সুবিধার জন্য লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু ভালো চালের বদলে নষ্ট চাল দেওয়া হচ্ছে। এটি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা। প্রশাসন জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
ইউনিয়নের টিসিবির কার্ডধারী মমতাজ বেগম বলেন, টিসিবি পণ্যের যে চাল দিচ্ছে তা পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত মানুষ খাওয়া তো দূরের কথা গরু-ছাগলকে খাওয়ালে তাদের পেট খারাপ হবে। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে একই কথা বলেন শাহ আলমসহ অনেক ভোক্তা।
আরেক সুবিধাভোগী আমেনা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ একটু কম দামে টিসিবির মাল নিতে আসি। এখানে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল দিচ্ছে, খাওয়া লাগবে তাই উপায় না পেয়ে এই চাল নিতে হচ্ছে।’
উপজেলা খাদ্য অফিসার খোন্দকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ‘ডিলারদের দেখেশুনে পণ্য নিতে হবে। এর দায় আমরা নেব না।’
খাদ্যগুদাম থেকে নিম্নমানের চাল দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে খাদ্য পরিদর্শক রোমান বলেন, ‘আমাদের গুদামে দুর্গন্ধযুক্ত পচা চাল নেই। আমরা কোনো পচা চাল বিতরণ করিনি।’
উপজেলা ইউএনও নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’