ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৫ ২০:০০ পিএম
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৫ ২১:১৭ পিএম
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য, সাবেক এমপি আব্দুর কাদের আজাদ ওরফে এ কে আজাদের গ্রেপ্তার দাবি করেছে ছাত্র-জনতা। বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মীদের নিয়ে এ কে আজাদ তার কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, যা জুলাই আন্দোলনের পরিপন্থি। এই এ কে আজাদের নির্দেশে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হয়। এখনও ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়ে রয়েছে। তিনি এই জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের সঙ্গে তামাশা শুরু করেছেন।
তিনি যদি এরূপ কর্মকান্ড থেকে সরে না আসেন তাহলে তিনি যতই ক্ষমতাধারী লোক হোক না কেন, যার আর্শিবাদ নিয়ে আসেন না কেন, আমরা ভুলে যাব তিনি ফরিদপুরের সন্তান। আমরা যখন জুলাই আন্দোলন করেছি, ঠিক একইভাবে তাকে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করব। অবিলম্বে এ কে আজাদসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, আওয়ামী লীগের দোসর এ কে আজাদ বিভিন্ন সময় দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রকাশ্যে গনসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমরা তাকে সতর্ক করেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনেননি। একে আজাদ গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দিয়েছেন, তিনি নাকি আওয়ামী লীগ করেন না। অথচ তার ডানে-বায়ে সবই আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারা রয়েছেন। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে তিনি এসব করছেন। অথচ প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা। এ কে আজাদের এসব কর্মকান্ড শুধুমাত্র রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি নয়, এটি গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা।
আমরা জানতে চাই, ফরিদপুরের মাটিতে আবারও কি সেই স্বৈরাচার ও দমন নীতির রাজনীতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে? জনগণ আর কিছুতেই আওয়ামী লীগ নামের সন্ত্রাসীদের পুনরুত্থান মেনে নেবে না। আজকের পর থেকে যদি এসব কর্মকান্ড চলতে থাকে তাহলে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটলে এর দায় প্রশাসন এবং এ কে আজাদকেই নিতে হবে।
আরও বলা হয়, ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান আওয়ামী লীগের দোসরদের সহযোগীতা করছেন। কোতয়ালী থানাকে মাছের বাজারে পরিণত করেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করে সন্ধ্যা হলেই থানায় বিচার-শালিসের নামে বাজার বসাচ্ছেন। যেহেতু এ কে আজাদ নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা, তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ২৪ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মেহেদী হাসান, সাইফ খান, ফারহান নাইব, তামজিদ সিওনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, ‘এ কে আজাদের গাড়ি বহরে যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলা’ শিরোনামে সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ফরিদপুর জেলা ও মহানগর যুবদল। বুধবার দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন।