চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:১৩ পিএম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে। সকল কিছু হারিয়ে তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। তাদের আহাজারিতে চারপাশ ভারী হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গিশ্বর গ্রামের মধ্যমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সাঙ্গিশ্বর গ্রামের মধ্যমপাড়ার মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে ফিরোজ ভূঁইয়ার ঘর থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ফিরোজ ভূঁইয়া ও আফসার মিয়ার টিনসেড ঘরে। এতে ঘরে থাকা আলমারি, সুকেশ, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ফ্রিজ, টিভিসহ সকল মালামাল ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং দুই পরিবারের প্রায় ৩৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়।
ভুক্তভোগী ফিরোজ ভূঁইয়া বলেন, আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি, ঘরে আগুন লেগেছে। আমার মা, স্ত্রী, ছেলেমেয়েরা হাউমাউ করে কাঁদছে। আগুনের কারণে আমরা কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারিনি। ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকাসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে।
আফসার মিয়া বলেন, গত ২২-২৩ বছর যাবত আমি আবদুল মমিন মাস্টারের বাড়িতে থাকি। এ সুবাদে আমি এ গ্রামেই বিয়ে করে বসবাস করছি। আগুনে আমার ঘরের পরনের কাপড় ছাড়া এক সুতাও বের করতে পারিনি। আমার কষ্টের জমানো ৬০ হাজার টাকা, তিন ভরি স্বর্ণ, চারটি খাট, আলমারি পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। খোলা আকাশের নিচে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।
আফসার মিয়ার স্ত্রী কুলসুম বেগম বলেন, ধোড়করা বাজার থেকে শখ করে শাপলা কিনে আনছি। ডিম দিয়ে রান্না করেছি। কিন্তু খাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। আগুনের লেলিহান শিখায় আমার ঘরে থাকা সকল জিনিসপত্র পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মো. হানিফ বলেন, খবর পেয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। দুইটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতরভাবে বসবাস করছে। এই মুহূর্তে তাদের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মেহেদী হাসান সুজন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা যদি ভালো হতো, খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারলে তাদের ক্ষতির পরিমাণ কম হতো না। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুনে তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। দেখে মনে হয়েছে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।