আলোচিত ধর্ষণকাণ্ড
মহসিন মোল্যা, শ্রীপুর (মাগুরা)
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:১৪ পিএম
একদিন যারা খোঁজখবর নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন আজ আর তারাও খোঁজ নেন না, খাঁ খাঁ করছে মাগুরায় শিশু আছিয়ার বসতবাড়ি। প্রবা ফটো
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সারা দেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। জড়িতদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। সে সময়ে আছিয়ার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু এখন আর কেউ খোঁজ রাখে না।
আলোচিত সেই ঘটনার ৬ মাস যেতে না যেতেই চরম অসহায় হয়ে পড়েছে আছিয়ার পরিবার। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় দিন পার করছে পাঁচ সদস্যের পরিবারটি।
সরেজমিনে জানা যায়, আছিয়ার বাবা ফেরদৌস শেখ মানসিক প্রতিবন্ধী। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। একসময় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালালেও এখন পুরোটা অক্ষম। সারাদিন শুয়ে থাকেন বাড়িতে। বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া যঋণে জর্জরিত পরিবারটি। বসতবাড়ির সাত শতক জমিই সম্বল। বসবাসের একমাত্র ঘরটিও সরকারের দেওয়া। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন শিশু আছিয়ার চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করেন। আছিয়া মারা গেলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার বাড়িতে এসে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গোয়ালঘর ও দুটি গাভী দেন।
কিন্তু বর্তমানে আর কেউ খোঁজ রাখে না আছিয়ার পরিবারের। চরম অসহায়ত্বে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে পরিবারটির সদস্যদের।
আছিয়ার মা আয়েশা বেগম কান্না করতে করতে বলেন, 'আমার বড় কষ্ট লাগে, এখন আর কেউ আমার পাশে নেই। খোঁজই নেয় না, বেঁচে আছি না মরে গেছি। হুজুররা একটা গোয়ালঘর করে দিয়েছে এবং গরু কিনে দিয়েছেন। সেই গরুর দুধ বিক্রি করেই কোনোমতে সংসার চলছে। যারা খোঁজখবর নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন, তারাও এখন খোঁজ নেন না।'
তিনি আরও বলেন, 'আছিয়া মরার পর অনেকেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। তখন যতটুকু সহযোগিতা করার, করেছিল। আছিয়ার বাবার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে পালানোর পর কেউ কোনো খোঁজ করেনি। আছিয়া হত্যার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু বিচার পাইনি।'
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ মার্চ রমজান ও ঈদের ছুটিতে জারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী আট বছরের শিশু আছিয়া বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এরপর ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালি এলাকায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ৬ মার্চ সকালে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে ওই রাতেই দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে ৮ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার বড় বোনের শ্বশুর হিট শেখ, জামাই সজীব শেখ, দেবর রাতুল শেখ ও শাশুড়ি জাহেদা বেগমকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন আয়েশা বেগম। এ ঘটনায় মাগুরার আদালত হিটু শেখের ফাঁসির আদেশ দিলেও বাকি তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেন।