টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৫৫ পিএম
টাঙ্গাইলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের গণসংযোগ শেষে হৃদরোগে মারা গেছেন জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হামিদুল হক মোহন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়ে রেখে গেছেন।
সোমবার বিকালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেওলী এলাকায় তিনি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য শেষ করে এলাসিনে অপর একটি প্রচারণায় যোগ দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন হামিদুল হক মোহন।
সেখানে যাওয়ার পথে তিনি অসুস্থ্ হয়ে পড়েন। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাকে জরুরিভাবে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্যক্তিজীবনে হামিদুল হক ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের (ভাষামতিন) ভগ্নিপতি। সোমবার রাতে তার মরদেহ টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বাদ জোহর শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার আগে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। পরে তাকে বেবীস্ট্যান্ড কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করা হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম পিন্টু শোক জানান।
দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ১২ অক্টোবর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে টাঙ্গাইল-৬ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দেন হামিদুল হক। এজন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। এর অংশ হিসেবে সোমবার বিকালে উপজেলার দেউলী ইউনিয়নে যান।
সেখানে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত দলের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন। সভা শেষ করে পাশের মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়েন। পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে অন্য আরেকটি গণসংযোগে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিছুদূর যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। তাকে অচেতন অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সিসিইউতে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হামিদুল হকের ঘনিষ্ঠ নেতারা জানান, স্কুলছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) মাধ্যমে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন হামিদুল হক। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। স্বাধীনতার পর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতে যুক্ত হন। পরে ভাসানী ন্যাপ বিএনপির সঙ্গে একীভূত হয়। তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালে সভাপতি হন। টানা ১৭ বছর জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি ছিলেন হামিদুল হক।