গোফরান পলাশ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৩০ পিএম
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৫৪ পিএম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তদারকির অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের টিসিবির কার্যক্রম। ফ্যামিলি কার্ড অ্যাক্টিভেট না থাকার অজুহাতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সুবিধার আওতায় আসছে না দুই-তৃতীয়াংশ উপকারভোগী পরিবার। এতে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উপকারভোগী পরিবারের মধ্যে নির্ধারিত মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহে টিসিবি পরিচালিত কার্যক্রম কোনো কাজে আসছে না।
সরেজমিন মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলাপাড়া পৌরসভার সামনে দেখা যায় টিসিবির পণ্যবাহী মিনি ট্রাক জনশূন্য দাঁড়িয়ে আছে। টিসিবির ডিলার ও তার কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। একটু সময় পরে দেখা যায় দুয়েকজন উপকারভোগীকে আসতে। ৩টা পর্যন্ত মোট ৩৩ উপকারভোগীকে পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। এছাড়া পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীর কক্ষে টিসিবির পণ্য দেখা যায়। তাদের বক্তব্য, তাদের কাছে উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা কার্ড দিয়ে গেছেন। এবং তাদের পণ্য ছাড়িয়ে রেখেছেন, যা তারা এসে নিয়ে যাবেন। তবে এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারকে দেখা যায়নি।
সূত্র জানায়, কলাপাড়া পৌরসভার টিসিবির উপকারভোগী তালিকা তৈরিতে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম করা হয়েছে। সাবেক মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ তাদের ভোটের রাজনীতির স্বার্থে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নাম বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো তালিকা তৈরি করেছেন। সেই তালিকা দিয়ে এখনও চলছে টিসিবির কার্যক্রম।
সূত্রটি আরও জানায়, কলাপাড়া পৌরসভায় টিসিবির তালিকাভুক্ত পরিবারের সংখ্যা ১৭৭০। এর মধ্যে ৩২০ জনের ফ্যামিলি কার্ড অ্যাক্টিভেট রয়েছে। বাকি কার্ডগুলো এখনও অ্যাক্টিভেট হয়নি। প্রতি মাসে উপকারভোগী পরিবার কার্ডের মাধ্যমে একবার ৫ কেজি চাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি ডাল, এক কেজি চিনি কিনতে পারছে ৫৪০ টাকা প্যাকেজ মূল্যে। প্রতি মাসেই টিসিবি ডিলার পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ে এলেও অধিকাংশ পণ্য ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেক ব্যবসায়ীর কাছে গোপন সখ্যে পণ্য বিক্রির গুঞ্জন থাকলেও টিসিবি ডিলার বলছেন তারা ফেরত পণ্য গুদামে জমা দিয়ে দিচ্ছেন।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে পৌরসভার সামনে টিসিবির পণ্য বিতরণ করা হয়, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। ওইদিন ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে এসেও পণ্য না পেয়ে ফিরে যান ৫ নং ওয়ার্ডের দিনমজুর সুবাস সিকদার, রজনী সিকদার ও তপন কুমার দাস।
এ বিষয়ে টিসিবির ডিলার শাওন শামসুদ্দোহা ট্রেডিংয়ের কর্ণধার শাওন বলেন, আজ বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত ১১০ জন উপকার ভোগী নির্ধারিত প্যাকেজ মূল্যে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করেছেন। বিতরণ কার্যক্রম চলমান, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। গত মাসে পণ্য বিতরণ করেন অপর ডিলার হুমায়ুন কবির। শাওন আরও বলেন, যাদের কার্ড অ্যাক্টিভেট করা নেই, তাদের পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফেরত পণ্য নিয়ে টিসিবি গুদামে জমা রাখা হবে।
কলাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্যলাল চক্রবর্তী বলেন, পৌরসভার টিসিবির কার্যক্রম তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপসহকারী প্রকৌশলী ওয়ালি উল্লাহ। তিনি এ বিষয়ে ভালো জানেন। কলাপাড়া ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক কাউছার হামিদ বলেন, আমি সরকারি প্রশিক্ষণে গোপালগঞ্জ রয়েছি। টিসিবির কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখছি।